‘নোলক’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও পরিচালক সাকিব সনেটের বিবৃতি

0
328
নোলক ছবির পোস্টার ও পরিচালক-প্রযোজক সাকিব সনেট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে নানা কারণে-অকারণে, আলোচনায়-সমালোচনায় ছিলেন ‘নোলক’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক। নানা জটিলতার কারণে তার প্রযোজিত ‘নোলক’ ছবির মুক্তিও ঝুলে রয়েছে। এরই মধ্যে তিনি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে পরিচালক-প্রযোজকদের দ্বন্দের কথা গনমাধ্যমে শেয়ার করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০ নভেম্বর ২০১৭ ‘নোলক’-এর ক্যামেরা ‘ওপেন’ হবার কথা ছিল। কিন্তু রাহার প্রি-প্রডাক্সনের কাজ সময় মতো শেষ না হওয়াতে ১০ দিনের জন্য শুটিং শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে ১ ডিসেম্বর, ২০১৭ তে করতে হয়। শুটিংয়ের তিন দিন আগে টেক্সট ম্যাসেজ পাঠিয়ে রাহা জানিয়েছিল, তার পক্ষে এই বাজেট কখনোই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অথচ যে কেউ বুঝবেন, এই দুর্মূল্যের বাজারে ‘নোলক’ সর্বোচ্চ বাজেটে নির্মিত হয়েছে। শুটিং শুরুর আগে প্রায় দুই মাস টেবিলওয়ার্ক করা হয়েছে। সেখানেও রাহা অনেক টাকার অপচয় করেছিল। শুধরে দিতে চেয়েছিলাম। রাহা আমলে নেয়নি। একটা পর্যায়ে সব কিছু শিঁকেয় তুলে খুশি মনে ভারতের হায়দরাবাদের রামুজী ফিল্ম স্টুডিও গিয়েছিলাম পুরো ইউনিট নিয়ে। ২৫ দিনের শিডিউল ছিল। সুশৃঙ্খল, গোছানো একটি ইউনিট; পরিকল্পনা ছিল সবকিছু গুছিয়ে ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ‘নোলক’ দর্শকের সামনে হাজির করবো। অথচ ২০১৮ শেষ হয়ে ২০১৯ চলছে, সামনে আরেকটি বাংলা নতুন বছরের হাতছানি। অথচ এখনো ‘নোলক’ নিয়ে দর্শকের মুখোমুখি হতে পারিনি।

বিবৃতিতে আরে জানানো হয়, রাহা প্রডাকশনের টাকা নিয়ে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে আইফোন এক্স কিনেছে। অথচ আমার অনুমতি নেবার প্রয়োজনই মনে করেনি। নায়ক শাকিব খানের নাম ব্যবহার করে হোটেলে নিয়মিতভাবে স্পা করিয়েছেন। জানাবার প্রয়োজনও মনে করেননি। ওমর সানির মত জনপ্রিয় অভিনেতার বারো (১২) দিনের শিডিউল নিয়েছিলাম। অথচ প্রথম পর্যায়ে তার দুই দিনের বেশি শুটিং করতেই পারিনি। শুটিংয়ের প্রয়োজনে প্রপস্ কিংবা অপ্রয়োজনেও রাহা যা আনতো, সবকিছুর অতিরিক্ত মূল্য গুণতে হতো। চার দিন ঘোড়ার খরচ ৪০ থেকে ৩০ হাজারে কমিয়ে এনেছিলাম। অথচ যে শুটিং চার দিনে শেষ হতো, রাহা সেটি করতে ১৪ দিন খরচ করেছিল। এভাবেই মুহুর্মূহু খরচ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন রাহাকে অনুরোধ করতাম, শাসন করতাম, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতাম-ঠিকভাবে কাজ করার জন্য। লাভ হয়নি। দিন শেষে প্রযোজক টীমকে পরিচালক টীমের কাজ করতে হয়েছে। এ ছবির যত স্থিরচিত্র/ বিহাইন্ড দ্য শ্যুট ভিডিও রয়েছে কিংবা ছবির অভিনয়শিল্পীদের জিজ্ঞাসা করলেই জানা যাবে, শুরু থেকেই এ ছবির পরিচালনার হাল বাধ্য হয়ে ধরতে হয়েছিল আমাকে। রাহা’কে আমি ২২ নভেম্বর, ২০১৭ পুরো বাংলাদেশের সামনে আমার ছবির পরিচালক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও প্রথম দিন প্রথম চিত্রধারণ থেকেই রাহা সেই ভরসার মান রাখতে পারেনি।

নিজেকে নামের প্রতি রাশেদ রাহা এতটাই মোহাবিষ্ট ছিলেন যে, কপিরাইট অফিসে ‘নোলক’ ছবির লেখক হিসেবেও তিনি দাবী করেছিলেন। অথচ এ ছবিটি লিখেছেন ফেরারী ফরহাদের মত মেধাবী একজন মানুষ। প্রয়োজনীয় দপ্তরিক কাগজপত্র রাহা তো দেখাতে পারছেন না। কারণ সব কিছু আমার কাছে। সবাই জানেন এ ছবির লেখক কে। আমি সেটি প্রমাণও করে দিয়েছি। তাহলে আপনারাই বলুন, রাহা লেখক হিসেবে যে দাবী করলেন এটি কি জঘন্যতম প্রতারণা নয়? আজ তিনি নিজেকে লেখক দাবী করছেন, পরিচালক হিসেবে দাবী করছেন, কাল হয়তো বলবেন তিনিও এ ছবির প্রযোজক! এরকম কিছু প্রতারক পরিচালকের কারণেই অনেক বিনিয়োগকারী/ প্রযোজক চলচ্চিত্রে অর্থলগ্নী করার সাহস পান না।

অনেকেই খবরের শিরোনাম করেছেন ‘নোলক ছিনতাই’ কিংবা পরিচালকের হক সাকিব সনেট ছিনিয়ে নিয়েছেন। রাশেদ রাহা গণমাধ্যমে কথা বলেছেন, আবেগী হয়ে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন-তাই অনেকে বিশ্বাসও করেছেন। কিন্তু একটিবারও যুক্তি তর্ক দিয়ে অনেকে যাচাই করে দেখছেন না। যদি রাশেদ রাহার নিজের নামের চেয়েও ছবিটির ব্যাপারে এত মায়া কিংবা দরদ থাকতো, তাহলে বিগত এক বছরে একটি বারের জন্যও কেন প্রযোজককে ফোন করে কিংবা সশরীরে দেখা করার প্রয়োজনও মনে করেনি? যদি পরিচালকের নাম হিসেবে তার নাম এতটাই যোগ্যতম হয়, তাহলে এ ছবির একটি ফ্রেমও কেন তিনি সম্পাদনা করতে আসেননি? এ ছবির দরজা তো তার জন্য সবসময়ই খোলা ছিল। যদি এতই মায়া থাকতো, তিনি বার বার বিভিন্ন মানুষকে ধরে কেন ‘নোলক’র শুটিং বন্ধ করার পায়তারা করেছেন? যদি রাশেদ রাহা এতটাই যোগ্য হবেন, তাহলে এ ছবির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর অভি মিত্র কেন ফেসবুক পোস্ট দিয়ে বলেছিলেন, রাহা শুধুমাত্র তার নিজের নামের জন্য এই ছবিটি করেছে। অন্যের ওপর দিয়ে কাজ সারিয়ে নিজের নাম জাহির করাই তার প্রধান ও একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল।

যদি রাশেদ রাহা এতটাই নির্ভুল, নিষ্কলঙ্ক হবেন, তাহলে এ ছবির চিত্রনাট্যকার ফেরারী ফরহাদ (যার বাসায় প্রায় সাড়ে তিন বছর রাহা থেকেছেন, ফেরারী ফরহাদ রাহাকে ‘সন্তান’ তুল্য মনে করতেন) কেন ‘নোলক’-এ রাহার দায়িত্বহীনতা দেখে ফেসবুক পোস্ট দিয়ে বলেছিলেন, শিল্পীদের রাহা অভিনয় ও চরিত্র বুঝিয়ে দিতে অক্ষম। কেন ফেরারী ফরহাদ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, আগামীকাল যদি পরিচালক সমিতি একটি দৃশ্যে তাকে অভিনয় করে বুঝিয়ে দিতে বলে এবং রাহা যদি সেটি পারে, ফেরারী ফরহাদের মত মেধাবী লেখক লেখালেখিই ছেড়ে দেবেন?

রাশেদ রাহার কারণে আমার দেড় কোটি টাকা (১.৫ কোটি টাকা) লোকসান পোহাতে হয়েছে। ১.৫ কোটি টাকায় অনেকে দুইটি মানসম্পন্ন চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন। আর আমি? প্রকৃত সত্য হলো, যারা এ ছবির সাথে যুক্ত আছেন তারা সবাই জানেন সত্যিকার অর্থে এ ছবির পরিচালক কে?

এতকিছুর পরও তো শুধুমাত্র নিজের নাম পরিচালক হিসেবে ব্যবহার করিনি আমি। এককভাবে ‘নোলক’-এর মত অসাধারণ একটি চলচ্চিত্রের পুরো কৃতিত্ব আমি নিতে পারিনা। আর তাই পরিচালক হিসেবে ব্যবহার করেছি: সাকিব সনেট এন্ড টীম। আমাকে আমার টীম নিয়ে প্রি প্রোডাক্সন, প্রোডাক্সন, পোস্ট প্রোডাক্সন এবং শেষ যুদ্ধ প্রচার-প্রচারণার কাজটিও একা সামলাতে হয়েছে, হবে।

যেহেতু ‘নোলক’-এর স্বপ্ন বুননের প্রথম পরিকল্পনা আমার, প্রয়োজনে আমি একাই এর শেষ দেখে ছাড়বো। অবশ্য একা বললে ভুল হবে, আমার সাথে রয়েছে দেশের সিনেমামোদী বিশাল দর্শক পরিবার। যারা একটি ভালো চলচ্চিত্র দেখতে চান, যারা প্রেক্ষাগৃহে যতটা সময় থাকেন, পুরোটা সময় বিনোদনে টইটুম্বুর থাকতে চান, যারা শাকিব খান-ববিকে একটি মানসম্পন্ন দেশীয় চলচ্চিত্রে দেখতে চান, যারা পর্দায় মেধাবী অভিনয়শিল্পীদের অভিনয়যুদ্ধ দেখতে চান-সেসব দর্শকদের উদ্দেশ্যে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানিয়ে বলছি: আপনারা আছেন বলেই আমার আশার প্রদীপ এখনো নিভু নিভু করে জ্বলছে।

সাকিব সনেট প্রতিজ্ঞা করে বলেন, ‘নোলক’ শুধু একটি চলচ্চিত্রই হবে না, ‘নোলক’ হবে আপনাদের অহংকার। ‘নোলক’ হবে প্রিয় নায়ক শাকিব খান, প্রিয় নায়িকা ববির ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ অলংকার। আর বেশি দেরি করবো না। কথা দিচ্ছি, খুব শিগগীরই মহাসমারোহে আসছে ‘নোলক’। আমরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছি, আপনারা তৈরি তো? দেখা হবে প্রেক্ষাগৃহে . . . !!!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here