সমাজের প্রতি সিনেমা বা চলচ্চিত্রের দায়বদ্ধতা

0
293

জামশেদ শামীম

চলচ্চিত্র কি শুধুই এক প্রকারের বিনোদন মাধ্যম? চলমান চিত্র বা চলচ্চিত্র শব্দটি এসেছে ইংরেজি “মোশন পিকচার” থেকে । এটি একটি বিশেষ শিল্প মাধ্যম। বাস্তব জগতের চলমান বা কোন কাল্পনিক গল্প ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করে বা এনিমেশনের মাধ্যমে কাল্পনিক জগৎ তৈরি করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। বাংলায় চলচ্চিত্রের প্রতিশব্দ হিসেবে ছবি, ছায়াছবি, সিনেমা, মুভি বা ফিল্ম ( মুভি বা ফিল্ম যদিও ইংরেজি শব্দ) শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়।

চলচ্চিত্রের সাথে অতপ্রত ভাবে জড়িয়ে থাকে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও ইতিহাসের সব উপাদানসমূহ। সাধারনত যে সংস্কৃতিতে এটা নির্মিত হয় তাকেই প্রতিনিধিত্ব করে চলচ্চিত্রটি। শিল্পকলার প্রভাবশালী মাধ্যম, শক্তিশালী বিনোদন মাধ্যম এবং শিক্ষার অন্যতম সেরা উপকরণ হিসেবে খ্যাতি রয়েছে চলচ্চিত্রের । ছায়াছবির সাথে ভিজ্যুয়াল বিশ্বের সমন্বয় থাকায় সাধারণ মানুষের সাথে সবচেয়ে ভাল যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে চলচ্চিত্র । অন্য কোন শিল্পমাধ্যম সাধারণ মানুষের সাথে এতটা যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম নয়।
বিষয়বস্তু, পরিপ্রেক্ষিত, পটভূমি আর অবস্থানের উপর ভিত্তি করে অন্যান্য সাহিত্য মাধ্যমের মতোই চলচ্চিত্রের কিছু ধরণ রয়েছে যাদেরকে ইংরেজিতে জেনার (genre) বলে। ধরণ দিয়ে একটি চলচ্চিত্রকে সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। একটি চলচ্চিত্র আবার একাধিক ধরণের মধ্যে পড়তে পারে। জনপ্রিয় কিছু ধরণের মধ্যে রয়েছে হরর, রোমাঞ্চ, অ্যাকশন, থ্রিলার, ঐতিহাসিক, রূপকথা, কমেডি, সত্য ঘটনা ইত্যাদি। মানুষ খুব দ্রুত প্রভাবিত হয় । আর একেক ধরনের চলচ্চিত্র আমাদের সমাজের মানুষ বা দর্শকদের একেক ভাবে প্রভাবিত করতে পারে । তাই সামাজিক ও জাতীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজের মানুষদের একটি চলমান গল্প দেখানো উচিৎ; যাতে সমাজ ও দর্শকদের মানসিকতার উপর কোন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে ।
তাহলে আমরা বলতেই পারি যে, চলচ্চিত্র শিল্পের মাধ্যমে – সমাজের মানুষের মূল্যবোধ, নৈতিকতা, ভালো – মন্দ বিবেচনা শক্তি, উন্নয়ন মুলক কাজে উদ্যমী করা, স্বনির্ভর হওয়ার মানসিকতা তৈরি করা, পরিবার ও যেকোন সম্পর্কের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ব তৈরী করা, অপরাধ প্রবনতা কমানো, সচেতনতা বৃদ্ধি করা ও সুন্দর মনোভাব সৃষ্টি করে সমাজে ইতিবাচক এক বড় পরিবর্তন আনা যেতে পারে ।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here