প্রতিটি প্লাটফর্মে অনবদ্য অভিনেতা হিন্দোল রায়

0
183

বেশিরভাগ তারকা এবং বরেণ্য অভিনয় শিল্পীর শুরুটা হয় মঞ্চ দিয়ে। এখন যারা টিভি ও চলচ্চিত্রের পর্দা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তাদের প্রায় সবারই মূল শেকড় মঞ্চ। নানা ব্যস্ততায় মঞ্চ থেকে দূরে থাকলেও তাদের মন পড়ে থাকে মঞ্চেই। মঞ্চ তাদের ঠিকই টানে। তাই তো প্রাণের টানেই বার বার মঞ্চে ফিরছেন অভিনয় শিল্পীরা তাদের মধ্যে হিন্দোল রায় ব্যতিক্রম নন। মঞ্চ নাটক দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন হিন্দোল রায় । দীর্ঘ ৩০ বছর আগে তার অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল প্রতিভাস নাট্যদলের মাধ্যমে, এরপর টিভি নাটক ওটিটি প্লাটফর্মেও বেশকিছু ওয়েভ সিরিজ , সিনেমাতেও ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। তবে মঞ্চ থেকে কখনোই দূরে সরে যাননি। প্রিয় নাট্যদলের সঙ্গে যোগাযোগ তার ঠিকই ছিল।এবার সফোক্লেস এর রাজা ইডিপাস অবলম্বনে মুনির হেলালের নির্দেশনায় ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে সলিল সরকার এর ‘জায়া প্রজায়িনী ‘। তাতে অভিনয়ের জন্য ডাক পড়ে । আর উক্ত নাটকের মহড়ার জন্য অভিনেতা হিন্দোল রায় চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন গত দুই সপ্তাহ ধরে। মহড়ার একফাঁকে আনন্দ বিনোদেনের জন্য সাক্ষাৎকার নিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় প্রধান আজিজুল কদির।

আ-বি: মঞ্চের সাথে আমার আত্মার সংযোগ হয় কখন কিভাবে
হিন্দোল: সেই শৈশবে, ১৯৮৫ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সুকুমার রায় এর “অবাক জালপান” নাটকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, চট্টগ্রাম জেলা শাখা হতে অভিনয়ে বিশেষ পুরস্কার অর্জন।
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার এর অধীনে “প্রতিভাস” নাট্যদলের হয়ে বেশ কিছু নাটকে উল্লেখযোগ্য ভুমিকাই অভিনয়।এর মধ্যে “এবং ইন্দ্রজিৎ” নাটকে অমল, “কিনু কাহারের থেটার” নাটকে কিনু, জায়া প্রজায়িনী নাটকে দায়াদ চরিত্র উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বিখ্যাত ‘ইডিপাস’ অবলম্বনে এই ‘জায়া প্রজায়িনী’ নাটকে ইডিপাস অর্থাৎ এই নাটকে যার নাম ‘দায়াদ’ চরিত্রে নিয়মিত অভিনয় করছি।
আ-বি: আঞ্চলিক ও জাতীয় ভাবে অর্জন কি কি?
হিন্দোল: বেশ কিছু প্রতিযোগিতায় অভিনয় ও আবৃত্তিতে পুরস্কার অর্জন। যার মধ্যে জাতীয় শিশু পুরস্কার,জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ও জাতীয় রেড ক্রিসেন্ট ক্যাম্প উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ও বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজিত বেশকিছু উল্লেখযোগ্য নাট্য কর্মশালায় অংশ গ্রহন। চরিত্র অভিনেতা হিসাবে বাংলাদেশের প্রায় সব কয় জন খ্যাতিমান নির্দেশকের অধীনে কাজ করার সুযোগ হয়েছে।এর মধ্যে নুরুল আলম আতিক,সুমন আনোয়ার,শীহাব শাহিন,অনিমেষ আইচ,আশফাক নিপুণ,সালাউদ্দিন লাভলু, তৌকির আহমেদ,সকাল আহমেদ এর নাম উল্লেখ করা যায়।
আ-বি: এই পর্যন্ত ধারাবাহিক নাটকে অভিনযয়ের সংখ্যা কেমন?
হিন্দোল: ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ টিরও অধিক এক পর্ব ও ৭০ টির মতো ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করা হয়েছে। ওটিটি প্লাটফর্মেও বেশকিছু ওয়েভ সিরিজ ও সিনেমাতে অভিনয় করা হয়েছে। মুক্তি প্রাপ্ত ও মুক্তির অপেক্ষায় আছে আমার অভিনীত ৯টি চলচ্চিত্র। যার মধ্যে মুক্তি প্রাপ্ত “লাস্ট ঠাকুর”, “কাঠবিড়ালী”,”ন,ডরাই”,”ভয়ংকর সুন্দর” এর নাম বলা যায়।
আ-বি: পাশাপাশি আর কি কি করছেন?
হিন্দোল: এর পাশাপাশি ভয়েজ অভিনেতা হিসাবে বিদেশী বাংলা ডাবিং সিরিজ,সিনেমা ও কার্টুনে নিয়মিত কাজ করা হয়। যা বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও ওটিটি প্লাটফর্মে প্রদর্শিত হচ্ছে।
আ-বি: এতদিনকার অভিনয় আর মঞ্চ নিয়ে অভিনয় নিয়ে কিছু বলেন
হিন্দোল: “মঞ্চ” আর “অভিনয়” এই দুটি অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িত মঞ্চ অভিনেতাকে পুর্ণতা দান করে। জীবনানন্দ দাশ বলেছেন-‘শূন্য মনে হয়, প্রার্থনা কাজের সকল সময়’
কবিতার লাইনটির কথা মনে পড়ে । মঞ্চে দাড়ালেই কেন যানি শূন্য অনুভূত হতে থাকে। চারপাশে এতো দর্শক, আমি কি জানি! কতোটুকু জানি তাঁর যৌক্তিকতা কি..! আমি যখন মঞ্চে তখন দর্শক পুঙ্খানুপুঙ্খ খেয়াল করে। আবার অভিনেতাকে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয় তাঁর আত্মায়। আত্মা আর স্বত্তা মিলে একাকার হয়ে অনুভূতির সাগরে হাবুডুবু খায় অভিনেতা। আর এ অভিনয়ের নিরব বিচারক হচ্ছেন দর্শক। যা দেখাবা তাই…এই ধারনাই ভূল। দর্শক মন্দ-ভালো বুঝে। বিচারককে মাপকাঠিতে অভিনয়কে মাপে। নাম্বার দেয়, ভূল ধরে এবং সংশোধন করে। মঞ্চ নিজেকে তুলে ধরবার জায়গা। চরিত্রটি কি কি যৌক্তিক ক্রিয়া নির্দেশ করে তা অভিনেতাকে বুঝতে হয়। বুঝাবুঝির মধ্যে ফারাক থাকলে তা অন্ত:শার শূন্য অভিনয় হয়। তাই বলি মঞ্চ অভিনেতাকে নিজের মধ্যেও তাই স্থায়ী করে নেন সৃষ্টির আনন্দে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here