একজন কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী ‘এন্ড্রু কিশোর’

0
984
এস.এ.এম.সুমন:-

“আমার বাবার মুখে

যেদিন থেকে শুনেছিলাম গান,

সেদিন থেকে গানই জীবন

গানই আমার প্রাণ”।

৪ নভেম্বর ১৯৫৫ সালে রাজশাহীতে এক খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। বাবা খিটিশ চন্দ্র বরোয় এবং মা মিনু বরোয়। কিশোরের দুই ভাই ড. শিখা বিশ্বাস ও পিটার স্বপন কুমার বরোয়। তিনি ১৯৭৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় মাস্টার্স অব কমার্স ডিগ্রী লাভ করেন। কিশোর প্রাথমিক জীবনে সংগীতের প্রতি খুব উৎসাহী ছিলেন এবং অবশেষে তিনি আব্দুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সঙ্গীত পাঠ গ্রহণ শুরু করেন। যিনি পরে রাজশাহী বেতারের প্রধান সঙ্গীত পরিচালক হন।

এন্ড্রু কিশোর ১৯৮০ সাল থেকে দেশের সঙ্গীত শিল্পে সক্রিয় একজন জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত গায়ক। তিনি দেশের ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ হিসাবে পরিচিত,  ইতিমধ্যে ১৫,০০০ এর অধিক গান গেয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি উর্দু ও হিন্দি চলচ্চিত্রে গান করেছেন। ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, এবং ‘ডাক দিয়েছেন দয়াল আমারে’ ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’ গানগুলি তার বেশি জনপ্রিয়। সঙ্গীত শিল্পে অসাধারণ অবদানের জন্য এ যাবৎকালে  তিনি আট বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

এন্ড্রু কিশোর শিল্পী হিসেবে নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সংগীত, আধুনিক, লোক ও দেশাত্ববোধক গানের বিভাগে একজন গায়ক হিসেবে রেডিওতে তালিকাভুক্ত ছিলেন। তার চলচ্চিত্র প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের “অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তাঁর কেউ” গানের মধ্য দিয়ে। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের “ধুম ধারাক্কা”। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতীজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের “এক চোর যায় চলে” এবং এটি তার প্রথম গান। প্রতিভাবান  এই গায়ককে আর ক্যারিয়ারের পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, তিনি তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শ্রোতাদের অনেক হৃদয় স্পর্শকাতর গান উপহার দিয়েছেন।

জীবন চলার পথে তিনি লিপিকা এন্ড্রু (ইতি) এর সাথে বিবাহ বাধনে আবদ্ধ হন। লিপিকা এন্ড্রু একজন প্রকৌশলী। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তাদের একজন জে এন্ড্রু (সপ্তক) এবং মিনিম এন্ড্রু (সঙ্গা)।

এক প্রশ্নের জবাবে এন্ড্রু কিশোর বলেন, আমি একজন সাধারন মানুষ ও সাধারনভাবে জীবনযাপন করি । আমার বাবা সবসময় আমাকে মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকতে শিখিয়েছেন। তিনি সবসময় আমাকে শিখিয়েছে যে “অতিরিক্ত সবকিছুই খারাপ”। আমি সর্বদা খোলা মন রাখতে চেষ্টা করি, কারণ আমরা সবাই মানুষ এবং আমাদের সকলের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, আবেগ এবং অনুভুতি রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি যে সংগীত হৃদয় এবং আত্মাকে স্পর্শ করে। আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার হলো আমি যখন মঞ্চে উঠি তখন উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে যে আনন্দ ও ভালোবাসা পাই এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

এন্ড্রু কিশোর বলেন, বাবা আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ আইডল। আমার মা কখনও কোনো কিছুর কারনে অন্যদের দোষারোপ করেননি, বরং তিনি সবসময় খুব নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার চেষ্টা করতেন।

এন্ড্রু কিশোরর প্লেব্যাক সাফল্যগুলো এক নজরে-

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

১৯৮২ শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী ‘বড় ভাল লোক ছিল’, ১৯৮৭ ‘সারেন্ডার’, ১৯৮৯ ‘ক্ষতিপূরণ’, ১৯৯১ ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ১৯৯৬ ‘কবুল’, ২০০০ ‘আজ গায়ে হলুদ’, ২০০৭ ‘সাজঘর’, ২০০৮ ‘কি যাদু করিলা’।

বাচসাস পুরস্কার

১৯৮৪ সেরা পুরুষ কণ্ঠশিল্পী ‘প্রিন্সেস টিনা খান’, ১৯৮৭ ‘স্বামী স্ত্রী’, ২০০১ ‘প্রেমের তাজমহল’, ২০০৮ ‘মনে প্রাণে আছ তুমি’, ২০১০ গোলাপী এখন বিলাতে’।

মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার

১৯৯৮ শ্রেষ্ঠ গায়ক ও ১৯৯৯ “পদ্ম পাতার পানি”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here