‘চাটগাইয়া'(চট্রগ্রাম এর) ডিজিটাল এল ই ডি লাইট ‘এক জীবন’ খ্যাত শিল্পী ‘শহীদ’

0
970
সৈয়দ শহীদুল ইসলাম

মাহবুব মিনেল:- পুরো নাম তার সৈয়দ শহীদুল ইসলাম, ডাক নাম শহিদ। বাংলাদেশের অন্যতম ‘গ্রুপ অব কোম্পানিজ’ ‘ওয়েল গ্রূপ’ এর ডিরেক্টর তিনি, সেই হিসাবে তিনি একজন সফল ব্যাবসায়ী।  এছাড়া মিডিয়া তে বেশ কিছু তারকা’র আগমন এবং প্রতিষ্ঠার পিছনে এই মানুষটির অবদান অনেক বেশি। তার সুন্দর ফর্সা চেহারার সাথে মিলিয়ে এবং তার- সবার প্রতি সহযোগিতা মূলক আচরণ এবং নিজের সফল অবস্থানের জন্য চট্টগ্রাম বাসীরা তাকে ভালোবেসে ‘চাটগাইয়া ডিজিটাল এল ই ডি লাইট’ বলেন।এর বাইরে তার আরও একটি পরিচয়ে আমরা সবাই তাকে চিনি, তিনি আর কেউ নন তিনি দূরবীন ব্যান্ড এর টীম লিডার এবং আমাদের প্রিয় কণ্ঠশিল্পী ‘শহীদ’। তার এবং কোলকাতার শুভমিতার গাওয়া ‘এক জীবন’ গানটি যখন মুক্তি পায়, সেসময় নতুন প্রচারের মাধ্যমে এক নতুন সফলতার রেকর্ড গড়েছিলো।

দূরবীন ব্যান্ড এর সাথে তার অ্যালবাম গুলো হলো- দূরবীন, দূরবীন ২.০, দূরবীন ৩.০, দূরবীন ৪.০। আর তার সলো অ্যালবাম গুলো হলো- বৃষ্টির গান, নীলাম্বরী, নীল ছোঁয়া উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ইউটিউবে তার গাওয়া আরও অনেক জনপ্রিয় সলো ট্র্যাক রয়েছে।

গানের জগতে আসা থেকে শুরু করে এবং সর্বসময় বিভিন্নভাবে তিনি শ্রদ্দেয় মরহুম আইয়ুব বাচ্চু এর সান্নিধ্যে ছিলেন।

বিভিন্ন জানা অজানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে তার ভাবনা চিন্তার কথা ব্যক্ত করেন আনন্দ বিনোদনের ‘মাহবুব মিনেল’ এর সাথে।

আনন্দ বিনোদন: ভাইয়া কেমন আছেন?

শহীদ:-অনেক ভালো আছি।

আনন্দ বিনোদন:- আপনার গান  গাওয়ার শুরুটা জানতে চাই।

শহীদ:- তখন আমি ক্লাস ফাইভ বা সিক্স এ পড়ি, আমার এলাকাটা হলো চিটাগং এর কালুরঘাট এর মোহড়া গ্রামে। ঐটা আসলে একটা হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা, মাঝখানে আমাদের বাড়ি, তো হিন্দু দের বারো মাসই পূজা থাকে আর ওই পূজার উপলক্ষে সারা বছরই কিশোর কুমার সহ অনেক জনপ্রিয়  শিল্পীদের গান  বাজতে শুনতাম, আর শুনতে শুনতে অনেক গান ই তখন মুখস্ত করে ফেলেছিলাম, বলতে গেলে জীবনের প্রথম গানের শুরু আমার এখান থেকেই।

এরপর হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান শেখার জন্য ইচ্ছা পোষণ করলাম। তখন আমার পরিবার গান বাজনা পছন্দ করত না, তাই হারমোনিয়াম আর কেনা হয়ে উঠেনি, আমার গানের প্রতি আগ্রহ দেখে এখানকার এক হিন্দু পরিবারের এক বড় আপু আমরা যাকে ‘সোমো দিদি’ বলে ডাকতাম, তিনি আমাকে প্রথম হারমোনিয়াম এ গান তুলে গাইতে শেখালেন। এরপর থেকে স্কুলে যেকোনো ধরনের গানের প্রতিযোগিতা হলে আমি অংশগ্রহন করে ১ম,২য় বা ৩য় এর কোন একটা পুরস্কার নিয়ে ঘরে ফিরতাম।

আমার এলাকার এক বড়ভাই ছিলেন তিনি শিক্ষকতা করতেন এবং গান গাইতেন, তিনি নিয়মিত একটা নজরুল সঙ্গীত গাইতেন, তার গাওয়া গানটি নিয়মিত শুনে শুনে আমি সেটা শিখে ফেলি, এর কিছুদিন পর আমাদের থানায় একটা গানের প্রতিযোগিতা শুরু হলো, সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখায় সবাই অংশগ্রহন করলো, আমি তখন সেই নজরুল সঙ্গীত টি গেয়ে থানার মধ্যে ১ম পুরস্কার পাই, এটাই আমাকে গানের ব্যাপারে সবচেয়ে আগ্রহী করে তুলেছিল। পরবর্তীতে শিল্পকলা একাডেমীতে ভর্তি হয়ে গান শিখি।

আনন্দ বিনোদন:- ঢাকায় ব্যান্ড সঙ্গীতের সাথে কাজ শুরু করলেন কবে থেকে এবং কিভাবে?

শহীদ:-আমাদের এলাকায় দৌহিত্ত সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী নামে আমাদের একটা সংগঠন ছিল। মূলত আমরা যারা একসাথে পড়াশুনা করতাম তারা এই সংগঠন এর মাধ্যমে কবিতা আবৃত্তি, অভিনয় এবং গান এর পরিবেশনা করতাম নিজ এলাকা এবং বিভিন্ন জেলায় গিয়ে। পরবর্তীতে সবাই ঢাকায় বিভিন্ন কাজ ও পড়াশুনার জন্য চলে আসলো, এবং তখন থেকে সবাই যার যার মত সাংবাদিকতা, এবং মিডিয়া লাইন এ কাজ শুরু করলো এখন সেইসব বন্ধুরা সবাই বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেলে অনেক বড় বড় অবস্থানে আছে। আমি নিজে ও তখন ঢাকাতে এসে গোলাম সরোয়ার ভাই এর অধিনে একটা পত্রিকায়(পত্রিকার নাম টা বলছি না)কাজ শুরু করি, তখন দৌহিত্ত সংগঠন  এর ঢাকায় থাকা বন্ধুরা দেখলো দোহিত্ত তো আর নাই এখন কিন্তু সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে হবে, তাই এরপর আমরা ২০০২ এ একটা নতুন ব্যান্ড করি, আর ব্যান্ড টির নামকরন হলো ‘দূরবীন’ উল্লেখ্য যে সরোয়ার ভাই এর পত্রিকায় প্রকাশিত একটা সাপ্লিমেন্টারি ম্যাগাজিন এর নাম ছিল দূরবীন, সরোয়ার ভাই ও নামটি আমাদের ব্যান্ড এর নাম হিসাবে ব্যবহারের অনুমতি দিলেন।

আনন্দ বিনোদন:- তখন আপনার ব্যান্ড এর লাইন-আপ এ কারা কারা ছিলেন?

শহীদ:- ড্রামস এ ছিলো বাবু, রাজু ছিলো গিটারে, বেইস এ ছিলো সমর, আর ভোকালে-নয়ন, সাব্বির আর আমি।

আনন্দ বিনোদন:- ‘দূরবীন’ এর ১ম অ্যালবাম এ কি এই লাইন-আপেই হয়েছিল?

শহীদ:-হ্যা।

আনন্দ বিনোদন:- ১ম অ্যালবাম এর গল্প শুনতে চাই।

শহীদ:- সেই সময় আমাকে সমস্ত কাজে সাহায্য করেছিলেন-শফিক তুহিন, এবং টিংকু আজিজুর রহমান। তখন জাতীয় পর্যায়ে বাচ্চু ভাই ছাড়া আর এতো কাছের কেও ছিল না, ২০০৩ এর সময়কার একটা ঘটনা বলি, সময় পেলেই বাচ্চু ভাই এর স্টুডিও তে বসে থাকতাম, একদিন শফিক তুহিন স্টুডিও তে আসলে তাকে বাচ্চু ভাই বললো তুহিন- শহীদ আমার কাছের ছোট ভাই ওরে একটু হেল্প করিস। এরপর তার সহযোগিতা পেলাম, প্রস্তুতি আর গান রেকর্ড করার জন্য টিংকু ভাই এর স্টুডিও তে, কাজ শুরু করি, এভাবে কাজ করতে করতে ২০০৬ সালে আমাদের ১ম অ্যালবাম ‘দূরবীন’ প্রকাশ করি।

আনন্দ বিনোদন:- এই ব্যান্ড এ আরো কিছু মেম্বার ছিলেন, যারা এখন বর্তমানে নিজ নামে একটা অবস্থানে আছেন। তাদের কবে এবং কিভাবে আপনার ব্যান্ড এ যুক্ত করেছিলেন?

শহীদ:-২০০৮ সালে ‘ফুয়াদ আল মুক্তাদির’ এর সাথে আমার ১ম পরিচয় হয়। তার সাথে পরিচয় হবার পরই ‘দূরবীন’ ২.০১ এর কাজ শুরু করি।

২০০৭ এর দিকের একটা ঘটনা বলি, আমার বাসাটা আবাহনী মাঠের পাশে, তো সেই সময় রুমি(আরেফিন রুমি)আমাদের বাসার পাশেই ক্রিকেট খেলত। একদিন তার সাথে পরিচয় হলো, তো ও আমাকে বললো আমি তো গান বাজনা খুব পছন্দ করি, ওর গলাটা ও আমার ভালো লাগলো এজন্য ওকে আমি বললাম আমার সাথে থাকো আশা করি ভালো কিছু করতে পারবে। এরপর ওকে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রোগ্রাম এ যেতাম, এভাবে আমার সাথে থাকতে লাগলো।

উল্লেখ্য, গত ১০ বছর ধরে রবিন্দ্র সরোবরে আমরা দূরবীন এর আয়োজনে শো করি, সেসময় দূরবীন ২.০১ রিলিজ হবার আগে আমাদের দূরবীন ব্যান্ড এর হয়ে শো তে রুমিকে একটা গান গাইতে বলি, তখন অন্য ব্যান্ড মেম্বাররা ব্যান্ড এর বাইরের কাউকে দিয়ে গান গাওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলো তখন রুমি গাইলে আমি খুশী হব, এটা বললে সবাই মেনে যায়। এবং সেই শোতে আমি ২ টা গান করি এবং রুমিকে ৬ টা গান করাই। আর সেই শো তে ওর পারফরমেন্স ও অনেক ভালো করলো।

তারপর ২০০৮ এ দূরবীন ২.০১ রিলিজ হবার পর শুভর(কাজী শুভ)সাথে কোনো একদিন পরিচয় হলো ওর গলাটা ও আমার ভালো লাগাতে ওকে ও সাথে নিয়ে নিলাম।

এরপর আইয়ুব(আইয়ুব শাহরিয়ার)৮ নম্বর এ বসে গান-আড্ডা করত, ওর গান ভালো লাগাতে ওকে ও সাথে নিয়ে নিলাম, কিন্তু ওরা ৩ জন তখনও ব্যান্ড এর মেম্বার হয়নি, কিন্তু আমার সাথে সবসময় থাকত এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতো।

আনন্দ বিনোদন:- আরেফিন রুমি, কাজী শুভ, এবং আইয়ুব শাহরিয়ার কবে থেকে দূরবীন এর মেম্বার হলেন?

শহীদ:- দূরবীন ২.০১ রিলিজ হবার পর ফুয়াদ ভাই(ফুয়াদ আল মুক্তাদির), হাবিব ভাই(হাবিব ওয়াহিদ) এর সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি হলো, তখন রুমি মোটামুটি কাজ করতে পারে, ও তখন বললো একটা হোম স্টুডিও হলে কাজ শুরু করতে পারি। এরপর স্টুডিও ইকুইপমেন্ট কিনে আমরা কাজ শুরু করলাম এবং রুমিকে বললাম আমি তোমাকে দিয়ে প্রথম কাজটা করাতে চাই, রুমি বললো আমি এখনো গীটার টা ঠিকমতো বাজাতে পারি না এটা কি আমি পারবো?

আমি ওকে অনুপ্রেরনা এবং সকল ধরনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট এর ব্যাবস্থা করে দিলাম এবং কোনমতে কাজ শুরু করে ৪ টা গান তৈরি করলাম, তখন ‘বৃষ্টির গান’ নামে আমার একটা সলো অ্যালবাম এ গান গুলো রিলিজ হলো, যার বাকি গান গুলোতে বাপ্পা দা(বাপ্পা মজুমদার) সহ আরও সঙ্গীত পরিচালক কাজ করেছিলেন।

এরপর ২০০৯ সালের দিকে রুমিকে বললাম আমরা তো নিজেরাই এখন নতুন নতুন গান করতে পারবো, তোমরা আমাদের ব্যান্ড এর ভোকাল হও এবং চলো আমরা আরও কিছু গান করি, তখন আমরা ‘জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ’ গানটি করলাম।

এরপর আমরা প্রত্যেকেই কিছু সলো গানের কাজ করে নিজ নামে পরিচিত হলাম, রুমি, শুভ, আইয়ুব এবং আমার ওই গান গুলো সবাই জানে।

আনন্দ বিনোদন:- একটা ব্যান্ড এর ভোকাল নিজে গান গাওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করে, আর আপনি নিজের তৈরি করা ব্যান্ড এ নতুন নতুন ভোকাল নিয়ে এসেছেন?

শহীদ:- হ্যা, ওদের প্রতি আমার ভালোবাসা এতটাই জন্মেছিল যে, এমনও হয়েছে দূরবীন ব্যান্ড এর দেশ টিভিতে লাইভ প্রোগ্রাম আছে, সেদিন আমি জ্যাম এ আটকে আছি, বা অন্য ঝামেলায় আছি বলে প্রোগ্রামে আসি নাই এবং ওদের বলেছি আমি আসতে পারছি না তোমরা একটু চালিয়ে নাও, এরপর আড়ালে থেকে টিভি চ্যানেলের সামনে গাড়িতে ওদের জন্য অপেক্ষা করেছি একসাথে ফিরবো বলে, এটা করেছি এই ভেবে যেন ওরা একটু বেশী গান গাইতে পারে।

আনন্দ বিনোদন:- আরেফিন রুমি এবং কাজী শুভ কবে এবং কিভাবে দূরবীন ব্যান্ড থেকে আলাদা হয়ে গেল, এবং তাদের সাথে আপনার বর্তমানে সম্পর্ক কেমন?

শহীদ:- ওরা প্রত্যেকেই আসলে অনেক ভালো, এবং আমার সাথে ওদের অনেক ভালো সম্পর্ক, আসলে প্রত্যেকেই যখন নিজ নামে পরিচিত হলো তখন প্রত্যেকের ই নিজস্ব ফ্যান ফলোয়ার তৈরি হওয়াতে সলো তে গান গাওয়ার মত এককভাবে স্টেজ পারফরমেন্স এর প্রয়োজন অনুভব করলাম, এছাড়া আমি নিজে ও ব্যাবসার জন্য ব্যান্ড এ ঠিকমত সময় দিতে পারছিলাম না, এজন্য আমি কাজের জন্য হয়ত কোনো একটা প্রোগ্রামে যেতে পারি নাই তখন অনেকেই প্রশ্ন করতো শহীদ ভাই নাই কেন?

এরকম কিছু কারনে আমি বললাম যে ব্যান্ড টা ব্যান্ড এর মত থাক, আর আমি তো সখের বশে গান করি, শুভ কে বললাম যে তোমাদের তো গান করেই চলতে হবে, তাই তোমরা বরং নিজেদের সলো প্লাটফর্ম টা রেডি করো তাহলে তোমাদের নিজেদের ই সুবিধা হবে, তখন আমার ইচ্ছায় এবং সবার সম্মতিতে আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করার সিদ্ধান্তে আসা, কিন্তু আলাদা ভাবে কাজ করলেও আজ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার হলে ও সবার সাথে দেখা হয়।

আনন্দ বিনোদন:- তাদের কারো কোন বিষয়ে একজন অভিভাবক হিসাবে আপনার কোনো রাগ বা অভিমান আছে কি?

শহীদ:- আসলে মানুষ মাত্রই রাগ অভিমান থাকবেই, তবে ওদের উপর আমার কোনো রাগ নেই, হয়তো একসাথে উঠতে বসতে কোনো সময় কোনো অভিমানের সৃষ্টি হতেই পারে।

বলতে চাচ্ছিলাম না- কিন্তু মানুষের অনেক বিষয়ে অনেক ভুল ধারনা আছে, এগুলো ভাঙ্গানোর জন্য একটু বলছি, রুমির যখন সমালোচিত সেই ঘটনাটি ঘটলো এবং যেদিন সমস্ত মিডিয়া তে সবকিছু জানাজানি হলো তার আগের দিন প্রায় সারাদিন ও আমার সাথে ছিলো, কিন্তু এমন ঘটনা ঘটিয়েছে একবারের জন্য ও আমাকে কিছুই যানায়নি, আর ঘটনাটা জানাজানি হবার পর আমার ওয়াইফ আমাকে বললো যে- যাকে এতো আপন ভাবো সে তোমার সম্মানের কথা ভাবল না এবং কাল ৪টা পর্যন্ত একসাথে ছিলে তোমাকে কিছুই জানালো না, তার মানে ও তো তোমাকে পাত্তা দেয়নাই, তখন আমি মনে খুব কষ্ট পেলাম।

আর আত্মীয় স্বজন সহ সবাই যখন অনেক খারাপভাবে বলছিলো কার সাথে গান করো? তখন আমি বললাম যে আমি তো ওকে অনেক পছন্দ করি, আর ও তো আমার সাথে কখনো বেয়াদবি করে নাই, কিন্তু বারবার এসব শুনতে শুনতে একসময় নিজেই তিক্ত হয়ে গেসিলাম, আসলে তারপরেই ওকে বললাম- আমাদের সম্পর্ক ভালো থাক কিন্তু তুমি ব্যান্ড থেকে আলাদা হয়ে নিজের মতো করে কাজ করো। আর যেখানে যে প্রয়োজন হবে আমাকে বলবে আমি আছি। একদিন ও আমাকে বললো যে আর গান বাজনা করবে না, তখন আমি ওকে বোঝাতে গেসিলাম, কিন্তু ও আমার সাথে দেখা করে নাই, ওর খোঁজে আমি গেলাম কেউ একজন বললো ও নাই… আমি চলে আসলাম। এরপর আমাকে আর ফোন ও দেয়নি, আর আমারও কাজের অনেক ব্যাস্ততা তাই আমিও আর যোগাযোগের চেস্টাই করিনি, এরপর থেকে ওর সাথে আমার আর কোনো যোগাযোগ নাই।

আনন্দ বিনোদন:- একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি, এই যে সব তারকারা রাজনীতিতে চলে আসছেন, আপনার কখনো এম পি বা রাজনীতিবিদ হবার ইচ্ছা আছে কি?

শহীদ:- না-না এবং কখনই না।

তবে পারিবারিকভাবে সেই ছোটবেলা থেকেই আমি মনে প্রানে বঙ্গবন্ধু এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সাপোর্টার, এবং আমার পরিবারে স্বাধীনতার পক্ষের অনেক প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ আছেন।

আনন্দ বিনোদন:- যতটুকু জানলাম, আপনার- শ্রদ্ধেয় মরহুম ‘আইয়ুব বাচ্চু’ এর সাথে অনেক ঘনিষ্ঠতা ছিলো, তার সাথে ঘটে যাওয়া আপনার বিশেষ কোনো একটা স্মৃতির কথা জানতে চাই।

শহীদ:- আসলে তার সাথে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা-ই আমার কাছে বিশেষ স্মৃতি।

১৯৮৬ সালের ঘটনা, তখন আমি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি, সোলস এর প্র্যাকটিস প্যাড থেকেই বাচ্চু ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয়, তিনি তখন সোলস এর গিটারিস্ট ছিলেন। আর তখন সোলস এর ম্যানেজার ছিলেন নিয়াজ নামের আমার এক মামা। সেসময় বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমি যেতাম, আর জেমস ভাই তখন আজিজ বোর্ডিং এ থাকতো এছাড়া বাংলা হোটেল নামের একটা হোটেল সেসময় ব্যান্ড সঙ্গীতের জন্য ছিল একদম একটা চর্চাকেন্দ্রের মত, এজন্য তাদের সাথে আমার অনেকভাবে একসাথে হওয়ার সুযোগ হতো।

দীর্ঘ ৮ বছর পরে ঢাকায় আসলাম এবং এসে বাচ্চু ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলাম, আমি তাকে বললাম আমি গান বাজনা করতে চাই, তখন তিনি আমাকে বললেন তুই ব্যাবসা করতে ঢাকায় এসেছিস তুই কি গান বাজনায় সময় দিতে পারবি? তোর বড় ভাই এতো কষ্ট করে ব্যাবসা পরিচালনা করছে, তাকে হেল্প করবি গান বাজনা করলে তোর ভাইয়ের একা একা অনেক কষ্ট হয়ে যাবে না?

(উল্লেখ্য, উনি ছিলেন আমার মেজ ভাই এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তাই তিনি একদম আমার ভাই বা অভিভাবকের মতই আচরণ করতেন।)

পরবর্তীতে আমার গানের প্রতি আগ্রহ দেখে তিনি যখন বুঝতে পারলেন যে আমি গান ছাড়া থাকতে পারবো না। তখন তিনি আমাকে গানের জন্য বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে লাগলেন, দেখা যাচ্ছে যে কোথাও অনুষ্ঠান হচ্ছে, তখন তিনি আমাকে বলতেন তুই কি এখানে গান করবি? এরপর আমি হ্যা বলার সাথে সাথেই তিনি আমাকে সেখানে গান গাওয়ার সুযোগ করে দিতেন।

শুরুর দিকে বলেছিলাম যে, ঢাকায় আসার পরে বাচ্চু ভাই এর স্টুডিও তে অনেক সময় কাটিয়েছি, তাই তখন থেকেই তখনকার ‘এল আর বি’ এর কী-বোর্ডিস্ট এস আই টুটুল ভাই সহ ব্যান্ড এর সকলের সাথে দারুণ সম্পর্ক ছিল।

বাচ্চু ভাই সম্বন্ধে বলতে গেলে সারাদিনেও কথা শেষ হবে না, তিনি কখনই কারো কষ্ট সহ্য করতে পারতেন না, সারাজীবন বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করেছেন, আর অনেক সময় নিজে সময় বের করতে না পারলে আমাকে বলতেন দেখ তো অমুক হসপিটালে আছে কিছু করা যায় কিনা, কিম্বা অমুক খুব কষ্ট করছে ওর জন্য কিছু করা দরকার।

আনন্দ বিনোদন:- ব্যান্ড মিউজিক নিয়ে বা নতুনদের প্লাটফরম তৈরিতে তার কোন পরিকল্পনায় সাথে ছিলেন?

শহীদ:- হ্যা অনেক পরিকল্পনায় সাথে ছিলাম তার, আর ব্যান্ড মিউজিক এবং নতুনদের নিয়ে তিনি বরাবরই চিন্তা করতেন।

যেমন চ্যানেল আই মিউজিক ফেস্ট এর কথা বলি, এটা যখন শুরু করা হয় তখন বাচ্চু ভাই আমাকে বললেন এটা শুরু করতে হবে, আমি বললাম এখনো তো কোনো স্পন্সর পাইনি, তাহলে কি করা যায়? উনি বললেন- দরকার হলে আমি টাকা খরচ করে করবো, তবুও ব্যান্ড মিউজিক টাকে টিকিয়ে রাখতে চাই। এরপর থেকে নিয়মিতভাবেই চ্যানেল আই মিউজিক ফেস্ট সফলতার সাথেই হয়ে আসছে, কিন্তু আফসোস এইবার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠানটি তাকে ছাড়াই করতে হলো।

একটা ঘটনা মনে পড়ছে- তিনি মারা যাবার এক বা দুইমাস আগের কথা।

আমি একটা কাজে সিলেট যাচ্ছি, ফ্লাইটে উনার সাথে দেখা হলো দেখা মাত্রই উনি বললেন এই শহীদ তুই কই যাচ্ছিস? আমি বললাম সিলেট যাচ্ছি একটা কাজে, আরও কথা হলো এর মধ্যে, তারপর বিমান থেকে নামার পরে উনার এরেঞ্জার আসলো উনাকে রিসিভ করার জন্য, সম্ভবত উনার সিলেট স্টেডিয়ামে একটা শো ছিল। উনি আমাকে বললেন সিলেট তো আসলাম এখন তুই কোথায় যাবি? আমি বললাম গন্তব্ব্যের কথা, উনি বললেন গাড়ী কি আসছে? তখন আমি বললাম যে হ্যা আমাকে যারা নিয়ে যাবে ওরা গাড়ী নিয়ে এখনি চলে আসবে। তখন তিনি ব্যান্ড মেম্বার দের সাথে গাড়িতে উঠতে গিয়ে নিজে আবার ফিরে আসলেন এবং বললেন- কি ব্যাপার গাড়ী আসে নাই মানে? এই বলে আমার কাছে বসে গেলেন এবং বললেন তোর গাড়ী না আসা পর্যন্ত আমি আছি।(অশ্রুসিক্ত চোখে বলছিলেন-শহীদ)

এরপর আমার যখন গাড়ী আসলো এবং বাইরে থেকে ফোন করে জানালো যে গাড়ী বাইরে দারিয়ে আছে, তখন বাচ্চু ভাই আমাকে সাথে নিয়ে গাড়িতে তুলে দিয়ে গাড়ীর দরজা পর্যন্ত নিজ হাতে বন্ধ করে দিয়ে তারপর নিজের গন্তব্যের দিকে গেলেন।

আনন্দ বিনোদন:-আমরা শুধু একজন আইয়ুব বাচ্চুকে নয়, হারিয়েছি মানবিক গুন সম্পন্ন একজন মানুষকে।

শহীদ:- শুধু এখানেই শেষ নয়, একজন লিজেন্ড এর যে যে গুনাবলি থাকা দরকার, তার মধ্যে তার সবটুকুই ছিলো, তিনি সেদিন সৌজন্যতা শেষে চলে যেতে পারতেন, কিন্তু এতো ব্যাস্ততার মাঝেও একজন ভাই হিসাবে আমাকে গাড়ীতে না তুলে দিয়ে সেদিন গেলেন না, যাবার সময় সামনের জানালায় দারিয়ে ড্রাইভার কে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কেমন আছেন? আপনি কি এই রাস্তায় নিয়মিত গাড়ী চালান? আরও কিন্তু দেড় ঘণ্টার রাস্তা। একটু দেখে শুনে চালিয়েন।

এগুলো মনে হলে আমি সত্যি আশ্চর্য হয়ে যাই যে একজন লিজেন্ড হওয়া এতো সোজা না, যেটা তিনি হতে পেরেছিলেন তার এই সকল গুনাবলি দিয়েই।

আনন্দ বিনোদন:- গানের ব্যাপারে তার দেওয়া কোনো উপদেশ মনে পড়ে?

শহীদ:- হ্যাঁ উনি আমাকে বলতেন, যখন গান গাইবি, তখন তুই নিজেকে এখানে রাখবি না একদম উপরে চলে যাবি, যতক্ষণ পর্যন্ত এটা না করতে পারবি ততোক্ষণ পর্যন্ত গান গান ই থেকে যাবে, কিন্তু মানুষ রিসিভ করবে না।

আনন্দ বিনোদন:- এটা না বললেই নয় যে ‘এক জীবন’ গানের মাধ্যমেই বাংলাদেশের সর্বস্তরের স্রোতারা শহীদ নামটির পাশাপাশি শুভমিতা নামটি ও চিনেছে। ‘এক জীবন’ গানের পিছনের গল্প শুনতে চাই।

শহীদ:- আসলে এটার পিছনে ও অনেক গল্প আছে, অনেক আগে থেকেই শুভমিতা দিদির সাথে আমার সম্পর্কটা নিজের ভাই বোনের মতো, তখন শুভমিতা দিদি তেমন একটা পরিচিতি লাভ করেন নাই।

সেসময় ফুয়াদ ভাই(ফুয়াদ আল মুক্তাদির) তার কিছু গান করেছিলেন, তখন তিনি আমাকে বললেন আপনি শুভমিতার সাথে কিছু গান করেন, আশা করি ভালো কিছু হবে। এরপর ফুয়াদ ভাইয়ের সঙ্গীতায়জনে ‘শ্রাবন মেঘের ডানায় চরে আসব মনের ঘরে’ শিরোনামে একটি গান সহ তার সাথে আরও কিছু ডুয়েট গান গাইলাম। ‘শ্রাবন মেঘের ডানায় চড়ে আসব মনের ঘরে’ রিলিজ হবার আগেই আর একবার বাংলাদেশে বেড়াতে এসে শুভর সুরে এবং রুমির সঙ্গীতায়জনে সেসময় ‘এই নীল নির্জনে’ শিরোনামের একটি গান গাইল সে।

এই গানগুলোর পর ‘এক জীবন’ গান টা করা হয়, এই গানের মজার ঘটনা হলো- একদিন হঠাৎ দিদি আমাকে ফোন করে বললো আমার তো বাংলাদেশে আসতে ইচ্ছা করছে, তখন আমি বললাম- আসেন না ঘুরে যান।

তারপর সে এলো, তাকে নিয়ে সারা ঢাকা শহর ঘুরালাম, তখনো তাকে কিন্তু তেমন কেও চিনে না, এরপর আমি তাকে বললাম একটা ডুয়েট গান রেডি করতেসি আপনি কিন্তু গেয়ে দিবেন, সে বললো ঠিক আসে গেয়ে দিবোনি এরপর তিন চার দিনে আমি আর রুমি মিলে গান টা রেডি করে ফেললাম, এরপর তার কণ্ঠ রেকর্ড করলাম, এবং আমার নীলাম্বরী এ্যালবামে গানটি রিলিস করলাম। কিন্তু এক বছর হয়ে যাবার পরেও গানটা তেমন কোন সারা পেলো না, কিন্তু যখন এটার মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করলাম তখন গানটি দারুনভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেলো।

আনন্দ বিনোদন:- এই গানের মিউজিক ভিডিও নির্মাণ সম্বন্ধে জানতে চাই, অনেকেই বলে থাকেন অন্য একটি মিউজিক ভিডিও এর কাহিনী নকল করা হয়েছে, এটা সম্বন্ধে আপনার মতামত কি?

শহীদ:- আমি মাঝে মাঝেই বিভিন্ন কাজে চায়না যাই, আমি সেসময় একটা কাজে চায়না গেসিলাম, সাওসিং এর মধ্যে একটা গ্রামে অনেকদিন আগে এই ঘটনাটা ঘটে, তো আমাকে সেখানকার একজন কাউন্সিলার বললো এরকম একটা ঘটনা আছে, এরপর ওদের মাধ্যমে এই ঘটনাটা দেখলাম একটা নাটক আকারে, তখন আমি ভাবলাম এটা দিয়ে তো আমার মিউজিক ভিডিও এর একটা স্টোরি বানাতে পারি, যে কথা সেই কাজ-এরপর ডিরেক্টর শিমুল হাওলাদার এর সাথে ঘটনাটা শেয়ার করলাম এবং তারপর মিউজিক ভিডিও এর কাজ শুরু করলাম, এরপর পরে জানতে পারলাম চায়না তে এই ঘটনা নিয়ে এমন একটি মিউজিক ভিডিও ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে, আমি তখন চিন্তা করলাম ঐতিহাসিক একই গল্প অবলম্বনে তো অনেকেই অনেক কাজ করেছে, আমি তখন ভাবলাম আমি যে কাজ টা করবো সেটা চায়না তে তৈরি হওয়া মিউজিক ভিডিও এর চেয়ে আরও বেশী ভালো করবো।

সত্যি তাই হলো, এবং মিউজিক ভিডিও তৈরি হবার পর গানের ভিডিও এবং গান সমানভাবে জনপ্রিয় হল, এই ছিল ‘এক জীবন’ তৈরির গল্প।

আর এই গানের শুরুতেই কিন্তু লিখে দিয়েছিলাম যে ‘চায়নার একটা সত্য ঘটনা অবলম্বনে’ নির্মিত, তাই এটা জানার পরে আর কারো দ্বিমত থাকার কথা না।

আনন্দ বিনোদন:- তার মানে গল্প চয়ন টা আপনারই ছিলো, এই সফলতার পিছনে কিন্তু এই গল্প টা অন্যরকম একটা ভুমিকা পালন করেছিলো।

শহীদ:-হ্যাঁ গল্প চয়ন টা আমারই ছিলো। যেহুতু গানটির অডিও রিলিস হবার পর এক বছরেও কোনো সারা পাইনি, কিন্তু এক বছর পর যখন মিউজিক ভিডিও তৈরি করে ছাড়লাম সফলতা টা তখনি আসলো।

তাই হয়তোবা এই গল্পের কারনেই আমার এই গান টা সফলতা পেয়েছিলো অথবা ভাগ্যে ছিলো, এটা স্রোতা এবং দর্শকেরা ভালো বলতে পারবেন।

আনন্দ বিনোদন:- যাই হোক ‘এক জীবন’ সেই সাথে শহীদ-শুভমিতা একটা সফল জুটি, এরপর শুভমিতার সাথে ‘এক জীবন’ গানের কোন সিক্যুয়েল করার ইচ্ছা আছে কি?

শহীদ:- না। আসলে ‘এক জীবন-২’ করার পর থেকে এর সিক্যুয়েল টা আর আমার ভালো লাগছে না। তবে শ্রোতাদের অধীর আগ্রহের কারনে শীগ্রই শুভমিতা’র সাথে আমার আরও কিছু ডুয়েট গান আসছে।

আনন্দ বিনোদন:-একজন শিল্পী হিসাবে নিজের কোন অবস্থানটা বেশী ভালো লাগে আপনার?

শহীদ:- আসলে একজন শিল্পী যে অবস্থান থেকেই গান করুক সে তো শিল্পিই। তবে ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন ব্যান্ড এর সাথে থেকেছি এবং দেখেছি খুব কাছে থেকে তাদের কার্যক্রম। দশের লাঠি একের বোঝা উদাহরন টা কিন্তু সবাই জানি, একজন সলো আর্টিস্ট সব সিদ্ধান্ত একা ই গ্রহন করে, কিন্তু একটা ব্যান্ড এর সকল মেম্বাররা যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয় এজন্য কয়েকজনের মিলিত শক্তি কিন্তু দশ এর লাঠি।

আনন্দ বিনোদন:- নিজের গাওয়া গানের মধ্যে প্রিয় একটি গান?

শহীদ:- সপ্নডানা(দূরবীন)।

আনন্দ বিনোদন:- পরিশেষে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির নবীনদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

শহীদ:- যারা নতুন নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে এসে অনেক অনেক গান গাইছে এবং যারা মিউজিক করছে তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ গুনে গুণান্বিত। নতুন নতুন যত বেশী শিল্পী এবং কম্পোজার আসবে তত বেশী গান আসবে এবং ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাবে।

আর বাচ্চু ভাই সবসময় গান নিয়ে একটা উপদেশ দিতেন যে- শুধু গার্লফ্রেন্ড কে শোনানোর জন্য গান করিস না, তাহলে সেই গান আর বেশিদিন থাকবে না। তিনি বলতেন গার্লফ্রেন্ড কে সামনে বসিয়ে গিটার বাজিয়ে গান শোনাবে বলে অনেককেই ব্যান্ড করতে দেখেছি, কিন্তু কিছুদিন পর আর ব্যান্ড নাই এমন হয়েছে। আমি ও নবীনদের এই আহবান ই করবো, সবাই যেন সুস্থ ধারার মিউজিক করে তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গীতের যে ঐতিহ্য আছে সেটা ধ্বংস হবার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

আনন্দ বিনোদন:- এতো কথার পরেও আরও অনেক কিছু জানার বাকি রয়ে গেলো, পরবর্তীতে আবার আপনার সাথে আরও জানা অজানা বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে চাই যদি আপনার সময় হয়। আনন্দ বিনোদন পরিবার এর পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনার মূল্যবান সময় দেবার জন্য।

শহীদ:- আমার পক্ষ্য থেকেও আনন্দ বিনোদন ম্যাগাজিনকে জানাচ্ছি অনেক অনেক ধন্যবাদ। সেই সাথে সফলতার সহিত এই ম্যগাজিন এর ১৯ বছর পূর্তিতে আমার পক্ষ থেকে রইলো অনেক অনেক শুভকামনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here