নির্মাণ আমার কাছে আশ্চর্য মনে হতো- সুমন রেজা

0
451

ছোটবেলা থেকে শিশু শিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে কাজ করলেও নির্মাণের প্রতি ঝোকটা তার বেশিই ছিল। যার ফলশ্রুতিতে এক অদম্য ও মেধাবী পরিচালক হিসেবে আজ নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। নির্দেশনাকে যিনি সর্বদাই স্বপ্ন ও আশ্চর্য বলে ভাবেন। এমনই এক দূরদর্শী চিন্তার নির্মাতার সাথে তার সমসাময়িক কাজের খবর ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন আনন্দ বিনোদন ম্যাগাজিন এর প্রতিবেদক। তার এ সাক্ষাতকারটি গ্রহন করেছেন আশরাফুল ইসলাম আকাশ।

প্রশ্ন: প্রথম জীবন সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?

সুমন রেজা: আমি ক্যারিয়ারের শুরুটা বলতে পারি। আমার ক্যারিয়ারের শুরু ফ্যাশন ডিজাইন দিয়ে। আমি মূলত মেনস ফ্যাশন নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর কাজ করি। পান্থপথে আমার নিজস্ব ফ্যাক্টরী এবং শোরুম ছিলো। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখা এবং বিজনেসের পাশাপাশি মিডিয়াতে কাজ করেছি।

প্রশ্ন: নির্মাতা হওয়ার পেছনের গল্প বলুন-

সুমন রেজা: প্রথমত ডিরেকশন আমার কাছে মনে হতো স্বপ্নের মতো। যখন একটা ফিল্ম দেখতাম তখন আমি ভাবতাম এটা নির্মাণ করে কিভাবে? সবার স্বপ্ন থাকে যে অভিনয়টা কিভাবে করে? আবার আমি যে অভিনয় নিয়ে চেষ্টা করিনি তা নয়। ১৯৯৫ সালের দিকে আমি মিডিয়াতে পরিচিতদের মাধ্যমে শিশু শিল্পী হিসেবে ছোট ছোট কাজগুলো করেছি। তাই বলা যায় ’৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কমবেশি অভিনয় করেছি। কিন্তু নির্মাণটা আমার কাছে মনে হতো আশ্চর্য। শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ করলেও এক সময় এসে মনে হয়েছে আমি ডিরেকশন ভালো দিবো। আর তখনই ২০০১ সালের দিকে আমি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করি। এরপরে অনেকের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করি।

প্রশ্ন: কি ধরনের কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

সুমন রেজা: আমি একটু সিরিয়াস ধরনের গল্প পছন্দ করি কিন্তু আমি এখনো সিরিয়াস গল্পের নির্মাণে হাত দিতে পারি নাই। আজ পর্যন্ত যা করেছি তার সবই কমেডি ধরনের কাজ। যাই হোক আমার নির্মিত সিনেমার জন্য একটা খুব সিরিয়াস গল্প নিয়েছি। তারপর আমার সামনে যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলো সিরিয়াস গল্পে নির্মিত হবে। যেহেতু এখন কমেডি যুগ চলছে তাই আমরা কমেডির উপরে বেশ নজর দিয়েছি কিছু করার নেই। পূর্বে ছিলো চ্যানেলের টিআরপি প্রেসার আর এখন হয়েছে ইউটিউবে ভিউয়ের প্রেসার তাই এভাবেই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।

প্রশ্ন: আমরা জানি আপনার পরিচালনায় প্রথম সিনেমা ‘ঝুম’ নির্মিত হতে যাচ্ছে, কাজের অগ্রগতি কেমন?

সুমন রেজা: এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে যেটা আমি বলতে চাই। একজন পরিচালকের প্রথম সিনেমা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল। কাজটি যত সহজে ধরা যায় তত সহজে শেষ করা যায় না। সেই কারনেই আমি সবার বাহিরে না। আমিও ঐ নতুন সবারই মতোই। আমিও জটিলতার মধ্যে আছি যাই হোক ঈদের পর কাজটি শেষ করে ফেলার ইচ্ছে আছে।

প্রশ্ন: সিনেমাটির, সুরকার/গীতিকার ও অভিনয়ে কারা আছেন?

সুমন রেজা: কাস্টিং নিয়ে আমি কখনোই কথা বলিনি। তারপরও এখানে আনিসুর রহমান মিলন ও তমা মির্জাসহ একটি চরিত্র সারপ্রাইজ হিসেবে দেখতে পাবেন। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন জামশেদ শামীম পাশাপাশি তিনি সিনেমায় দুটি গানের কথাও লিখেছেন। আর আমি দুটি গান জাতীয়াঙ্গনের সংগীত শিল্পীদের দিয়ে গাওয়াবো।

প্রশ্ন: প্রথম সিনেমা নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

সুমন রেজা: প্রথম সিনেমাটি খুব বেশি দর্শকপ্রিয়তা পাবে কিনা জানি না এবং আমি আশাবাদীও না। কেননা সিনেমাটি সাইক্লোজিকাল হরর ঘরানোর হবে। সিনেমাটির গল্প দর্শক যদি একবার বুঝে যায় তাহলে ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ টাইপের মানুষ দেখবে, আর যদি না বুঝে তাহলে আমাদের এখানে খুব বেশি একটা চলবে না। একটি শ্রেণী গল্পটিকে উপভোগ করবে। বাকিরা করবে কিনা বলতে পারছি না তবে তাদেরও যেন বোধগম্য হয় সেভাবেই নির্মান করছি। তবে মানুষ যদি হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখে তাহলে হতাশ হবেন না। অনেকেই নতুন পরিচালকের সিনেমা ভেবে হলে যায়না। আবার গতানুগতিক সিনেমাগুলোর মতো আমাদের পোষ্টার ব্যানার হবে না সেজন্য হলে নাও যেতে পারে। তবে যারা হলে যাবে তারা প্রসংশা করতে বাধ্য হবে।

প্রশ্ন: ‘ঝুম’ সিনেমা নিয়ে দর্শকদের কিছু বলুন-

সুমন রেজা: দর্শকদের এ কথা বলব যে, সিনেমাটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা। প্রতিনিয়ত আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া বলতে না পারা ঘটনা। কিছু ঘটনা কিছু কথা আছে যেগুলো মানুষের কাছে বলতে পারি না। আমার মনে হয় দর্শকরা যদি সিনেমাটি দেখে তাহলে তাদের ভেতরের জড়তাটা কেটে যাবে। যেমন আমরা একটা কিছু দেখে মনের অজান্তেই নেগেটিভ মাইন্ডে চিন্তা বা বিচার করে ফেলি, কারো সম্পর্কে কোন কিছু না জেনেই। তো এধরনের কিছু ঘটনা আমার সিনেমার মধ্যে তুলে ধরেছি, যেটি দর্শক দেখলে সেই সমস্যা থেকে ওভারকাম করতে পারবে।

প্রশ্ন: প্রচারিত টিভি ধারাবাহিক, একক নাটক ও স্বল্পদৈর্ঘ্য নিয়ে কিছু বলুন-

সুমন রেজা: টিভিতে প্রথম প্রচারিত হওয়া ৭ পর্বের ঈদের ধারাবাহিক ‘কুটুমবাড়ী’ দিয়ে আমার ডিরেকশনের যাত্রা শুরু হয়। তারপর আমার পরিচালনার প্রথম একক নাটক ‘নয়াকুটুম’। একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের ইন হাউসে দীর্ঘ তিন বছর যুক্ত ছিলাম। সেখানে প্রচারিত হওয়া জাহিদ হাসান অভিনীত ‘দেব্বু’, প্রভা ও শ্যামল মাওলা অভিনীত ‘দুষ্টু হাওয়া’, মীর সাব্বির ও শশী অভিনীত ‘বিষ পান করব না’, আনিসুর রহমান মিলন অভিনীত ‘রাত আঁধারী’ ইত্যাদি নাটকসহ প্রায় ২০ থেকে ২২টি একক নাটকে নির্দেশনা দিয়েছি। স্বল্পদৈর্ঘ্য অনেকগুলো করা হয়েছে কিন্তু ততটা সফলতা আসেনি। তারপরও বলতে হয় বেশ কিছুদিন পূর্বে জামশেদ শামীম অভিনীত ‘সিটি নাইট’ শিরোনামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মান করি। পরে ‘বিয়ের গল্প’ নামক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য নির্মান করেছি যা রীতিমতো দর্শক প্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়াও ঈগল মিউজিক থেকে আমার কথার ‘বাড়িওয়ালী’ শিরোনামের জুয়েল মোর্শেদ ভাইয়ের গাওয়া গান প্রকাশ হয়েছে। খুব ভালো গেয়েছেন।

প্রশ্ন: এছাড়া অন্যান্য কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলুন-

সুমন রেজা: একাধিক একক নাটক হাতে আছে কিন্তু আর্টিস্টদের শিডিউল জটিলতার জন্য করতে পারি না। ঈদ উপলক্ষে কোন কাজ করছি না। একটি ধারাবাহিক নাটকের কাজের কথা চলছে ঈদের পরে হাত দিবো বলে আশা করছি।

শত ব্যবস্তার মাঝেও আমাদেরকে সময় দেবার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here