নিয়মিত ভাল কাজ করলে দর্শক মনে সহজে জায়গা করে নেওয়া যায়।…. পরী

0
52

আনন্দ বিনোদন ডেক্সঃ দেশের সবচেয়ে ছোট প্রথম অস্থায়ী রাজধানী মেহেরপুর। মেহেরপুরের মেয়ে পরী, সেখানে কেটেছে তার গোটা শৈশব -কৈশোর।প্রাইমারি থেকে মাধ্যমিক পার করেছে জিনিয়াস ল্যাব. স্কুল এন্ড কলেজে তারপর  মেহেরপুর সরকারী মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এর গন্ডি পেড়িয়ে ঢাকায় পড়াশোনা করছেন। মেহেরপুরে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতেন “অরণী  থিয়েটারে সেখানেই  অভিনয়ের হাতেখড়ি।পাশাপাশি নৃত্য শিল্পী হিসেবে ছিলেন সমাদৃত। এছাড়াও প্রথম আলো বন্ধুসভার সাথে ছিলেন সম্পৃক্ত বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার কার্যকরি সদস্য পদে।। টুটুল চৌধুরী ও ত্বারিক স্বপন এর কো আর্টিস্ট হিসেবে ম্যানেজার নামে নাটক দিয়ে তার টেলিভিশন নাটকে পথ চলা শুরু।

আনন্দ বিনোদন কে এই অভিনেত্রী জানালেন অভিনয়  নিয়ে তার স্বপ্ন চাওয়া পাওয়ার কথা।পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

আনন্দ বিনোদনঃ আপনি প্রথম আলোর বন্ধুসভার সাথে সম্পৃক্ত হলেন কী ভাবে? 

উত্তরঃ স্কুল জীবনের প্রথম সংগঠন আমার বন্ধুসভা বলতে পারেন প্রাণের সংগঠন। এক শিক্ষকের হাত ধরেই সংগঠনে প্রবেশ।

আনন্দ বিনোদনঃ এই ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন। লোকে সে ভাবে চেনেও না। আশঙ্কা অনুভব করেন না?

পরিঃ না, নিজের উপর আত্মবিশ্বাস আছে । নিয়মিত মনযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকলে একদিন না একদিন লোকে চিনবেই। আর এখন যারা পরিচিত মুখ, সবাই তো একদিন নতুন ছিলো। 

আনন্দ বিনোদনঃ টিকে থাকার জন্য নিজেকে কিভাবে প্রস্তুত করছেন? 

পরিঃ নিজে নিয়মিত অভিনয় চর্চা করি। সিনিয়রদের নাটক দেখি, তাদের অভিনয় দেখি। যে কয়টা কাজ করেছি, সিনিয়রদের অনেক হেল্প পেয়েছি। তাদের দেওয়া টিপস গুলো ফলো করি।  

আনন্দ বিনোদনঃ এ বছর অনেক নতুনমূখ এসেছে তাদের থেকে আপনি কেন আলাদা?

পরিঃ আমি আলাদা কিনা সেটা জানি না। তবে আমার কাজের ক্ষুধা বেশি। কাজ করতে ভালো লাগে। বলতে পারেন কাজ করতে ভালোবাসি, অভিনয় জীবনের সাথে আমার প্রেম হয়ে গেছে। 

আনন্দ বিনোদনঃ নাচের সাথে আপনার সখ্যতা তৈরি হলো কীভাবে?

পরিঃ বরাবরই আমি নাচের প্রতি বেশ অনুরাগী ছিলাম। একদিকে শখের বশে শিল্পকলায় শিখতাম  অন্যদিকে থিয়েটারের (নাটকের) প্রয়োজনে সখ্যতা বেড়েছে।

আনন্দ বিনোদনঃ নাটকে আপনাকে কী ধরণের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়? 

পরিঃ পার্শ্ব চরিত্র। যখন যেমন চরিত্র পাই। কখনো নায়িকার নেগেটিভ চরিত্র, কান পড়া দিয়ে বান্ধবির সংসার ভেঙ্গে দেই, কখনো বা চাকরীজীবী নারী, কখনো বা নায়ক নায়িকার বান্ধবি।

আনন্দ বিনোদনঃ আপনি কি ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

পরিঃ অভিনয় করতে স্বাছন্দ্য বোধ করি। চরিত্র যেমনই হোক মনোযোগ দিয়ে অভিনয় করি  

আনন্দ বিনোদনঃ ওটিটি প্লাটফর্মে সাহসী চরিত্রের প্রস্তাব পেলে কাজ করবেন কি না? 

পরিঃ সাহসী চরিত্র বলতে কি বুঝিয়েছেন তা বুঝতে পারি নি। যদি সাহসী বলতে খোলা মেলা চরিত্র বলেন তাহলে আমার উত্তর না। আর আমি সাহসী বলতে বুঝি চ্যালেঞ্জিং ক্যারেক্টার যেমন পাগলী, ভিক্ষুক, পতিতা, জীবন যুদ্ধে হার না মানা নারী………… এইসব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অপেক্ষায় আছি। 

আনন্দ বিনোদনঃ কখনো সিনেমায় সুযোগ পেলে আপনি কী ধরণের চরিত্রে অভিনয় করতে চাইবেন ? 

পরিঃভালো গল্পের সিনেমায় অভিনয় করতে চাই। গল্পের প্রয়োজনে, চরিত্র যেমনই হোক আমি চরিত্রের সাথে মিশে যেতে পারবো এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। 

আনন্দ বিনোদনঃ নাটকের শুটিংয়ে আপনি বিভিন্ন পরিচালকের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে কাজ করেছেন।ভিন্ন ভিন্ন পরিচালক ভিন্ন ভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন? 

পরিঃ সত্য বলতে আমার কাছে দারুণ লাগে! মনে হয় সবাই আমার পরিবার। এখন পর্যন্ত যাদের সাথে কাজ করেছি সবাই খুব আন্তরিক ছিলো। একটা নাটক শেষ করে বাড়ি ফিরে সবাইকে অনেক মিস করি। মনে হয় কেন শেষ হলো ! কাল নেই কেন? 

আনন্দ বিনোদনঃ নতুন অভিনয়শিল্পীদের অনেকে চ্যালেঞ্জ অন্য সব সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনি কী করছেন?

পরিঃ সব পেশাতেই চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। প্রতিনিয়ত শিখছি। ভবিষ্যতের আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ আসতে পারে তাই নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করছি। 

আনন্দ বিনোদনঃ এরপর থেকে কি টানা শুটিং করবেন, নাকি যাওয়া-আসার মধ্যে থাকবেন? 

পরিঃ অভিনয়কেই পেশা হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছা আমার। নিয়মিত অভিনয় করতে চাই। যাওয়া আসার প্ল্যান নাই। এক টানা অভিনয় করতে চাই। ছোটপর্দার নিয়মিত মুখ হতে চাই। 

আনন্দ বিনোদনঃ কখনো মঞ্চে অভিনয় করেছেন?

পরিঃ  আমার অভিনয়ের শুরুই মঞ্চ থেকে। আমার জেলা মেহেরপুরের “অরণী  থিয়েটার”

আমার অভিনয়ের হাতেখড়ি। অরণী থিয়েটারের  নিয়মিত অভিনয় শিল্পী আমি।আমার মঞ্চ নাটকের গুরু “নিশান সাবের” ও মিডিয়াতে গুরু “আরিফুর রহমান নিয়াজ”খুব সুক্ষ ভাবে আমায় শিখিয়েছে তাই হয়তো আজ সফলতার শেকড় ধরতে পেরেছি। প্রায় ৮ বছর যাবত থিয়েটার করছি। 

আনন্দ বিনোদনঃ প্রথম কাজ কি ছিল? প্রথম কাজের অনূভুতি কেমন? 

পরিঃ টেলিভিশন নাটকে প্রথম কাজ ছিলো ম্যানেজার নামে একটা নাটক। টুটুল চৌধুরী ও ত্বারিক স্বপন এর কো আর্টিস্ট হিসেবে কজ করেছিলাম। আমার মনে আছে শুটিং এর আগের রাতে আমার ঘুম হয় নি। জীবনের প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। গলা শুকিয়ে এসেছিলো। কিন্তু ইউনিটের সবাই, পরিচালক ও আমার সহ শিল্পীরা এত আন্তরিক ছিলো যে আমার নার্ভাসনেস কেটে গিয়েছিলো।  

আনন্দ বিনোদনঃ আপনি কি ওয়েব সিরিজে জনপ্রিয় মুখ হতে চান? 

পরিঃ কেন চাইবো না। ভালো গল্পে অভিনয়ের সুযোগ আছে এমন চরিত্রে ডাক পেলে কাজ করবো। ওয়েবে নিয়মিত কাজ করতে চাই তবে নাটক বাদ দিয়ে নয়। 

আনন্দ বিনোদনঃ হঠাৎ কোন কোম্পানির ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার অফার আসলে কি করবেন? 

পরিঃ হয়তো খুশিতে হার্ট এটাক করে মরে যাবো। আমার স্বপ্ন নামী কোম্পানির ব্রান্ড এম্বাসেডর হবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here