লেখালেখির অনুপ্রেরণা আমার বাবা: ………অনুরূপ আইচ

0
560

নিউজ ডেস্ক:- অনুরূপ আইচ একাধারে গীতিকার, নাট্যকার ও সাংবাদিক। তার জন্ম ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে। বাবা টি বি আইচ ও মা নেলী আইচ। লেখালেখি করছেন সাহিত্যের নানান শাখায়। তার লেখা গল্প নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে দুই বাংলার বিভিন্ন পত্রিকায়। এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার নতুন গল্পগ্রন্থ ‘প্রেমভাগ্য’ এবং কবিতার বই ‘প্রেম এত সস্তা না’। বই দুটি মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুদ্ধপ্রকাশের ৩৯৮ নম্বর স্টলে পাওয়া যাবে। সেই সাথে পাওয়া যাবে পুরাতন দুটি জনপ্রিয় উপন্যাস ‘প্রেমলীলা’ ও ‘প্রেমহীনা’।

অনুরূপ আইচ শুধু গীতিকার গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়, তিনি কাজ করছেন বিনোদনের প্রায় সব শাখায়। নাটকের পাণ্ডুলিপি বা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও লিখেছেন। তিনি দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে গান লিখছেন। এ যাবৎ প্রায় সহস্রাধিক গান লিখেছেন। তার জনপ্রিয় গানেরে মধ্যে রয়েছে অযুত লক্ষ নিযুত কোটি (ব্যান্ডশিল্পী হাসান), সকাল বেলার কোকিল (বেবি নাজনীন), দিল (আইয়ুব বাচ্চু), পাংখা (মমতাজ), এক জীবন (শহীদ-শুভমিতা), তোমারি পরশ (আরফিন রুমি-পড়শি), দূরে দূরে (ইমরান-পূজা), তুমি আমার (জনি খন্দকার-মোহনা), এক জীবন-২ (শহীদ-শুভমিতা), মন দিয়ে দেখ (ইলিয়াস-নদী), তুমি আমার জীবনে সবকিছু (আরফিন রুমী-পূজা ), বলো না কোথায় তুমি (রুমি-খেয়া), নাচ পাগলা (খান্দকার বাপ্পি), ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা (প্রতীক হাসান), মেঘ বলেছে (আসিফ আকবর–কর্নিয়া), নিউ টুনি (প্রমিত কুমার) ইত্যাদি। এ পর্যন্ত তিনি লিখেছেন সহস্রাধিক গান। গীতিকার হিসেবে পেয়েছেন ‘ইউরো সিজেএফবি অ্যাওয়ার্ড ২০১৪’, কাজী নজরুল ইসলাম পদক, ডিসিআরইউ অ্যাওয়ার্ড, মিজাব অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরস্কার। জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য সহেনা যাতনা (পরিচালক সকাল আহমেদ), তুফান এক্সপ্রেস (পরিচালক নোমান রবিন), ক্রাইম রিপোর্টার (মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ), প্রেম নয় ভালোবাসা (শাহজাদা মামুন), পাংখা (নোমান রবিন), রাইটার (সুস্ময় সুমন), কথা (এহসান এলাহী বাপ্পী), অনু কিংবা পরমাণু (নোমান রবিন), কেউ এসেছিলো (রিপন মিয়া), ইউ টার্ন (সকাল আহমেদ), রিটার্ন ব্যাক (এহসান এলাহী বাপ্পী) ইত্যাদি।

ছবিতে অনুরূপ আইচের প্রকাশিত গ্রন্থ

সাহিত্যে এলেন কেন এবং কিভাবে?
অনুরূপ আইচ: ছোটবেলায় বাবাকে কবিতা লিখতে দেখতাম। তিনিই আমাকে ছড়া ও কবিতার প্রেমে ফেলেছিলেন। সে থেকে গানের প্রতিও আগ্রহ তৈরি হয় আমার। ক্লাস টুতে পড়ার সময় বাবা-মায়ের সাথে কলকাতা বেড়াতে গেলে বাবা আমাকে ছোটদের অনেকগুলো বই কিনে দেন। তার মাঝে ‘ছোটদের রবীন্দ্রনাথ’ বইটি পড়ে আমি প্রথম রবীন্দ্রনাথের প্রেমে পড়ি। তখন থেকেই আমি উনার মতো কবি হওয়ার বাসনায় কবিতা বা ছড়া লেখার চেষ্টা করতাম। শুধু তাই নয়, শিশুমনে ভাবতাম, আমার জীবনাচারটা উনার মতো হোক। সেই থেকে শুরু বলা যায়। স্কুল, কলেজে পড়ার সময় থেকে পত্রিকায় নিয়মিত আমার লেখা ছাপা হতো। সেসুবাদে একটা পরিচিতি আসতে থাকে আমার নামের। সেই সুনাম থেকে সাংবাদিকতায় আমাকে নিয়ে আসেন অন্যরা। এখনো এ পেশায় থাকলেও নিজেকে লেখক হিসবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

মেলায় এবার কী বই আসছে?
অনুরূপ আইচ: এবারের মেলায় আমার নতুন দুটি বই আসছে। একটি গল্পের বই, যার নাম- প্রেমভাগ্য। অন্যটি কবিতার বই, যার নাম- প্রেম এত সস্তা না। বই দুটি মেলায় ৩৯৮ নম্বর স্টল তথা ‘শুদ্ধপ্রকাশ’ এ পাওয়া যাবে। সেই সাথে এই স্টলে আমার পুরাতন দুটি জনপ্রিয় উপন্যাস ‘প্রেমলীলা’ ও ‘প্রেমহীনা’ পাওয়া যাবে নতুন আঙ্গিকে। শুদ্ধপ্রকাশ থেকে বের হওয়া আমার এই চারটি বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ।

গ্রন্থবদ্ধ লেখাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে যদি বলেন…
অনুরূপ আইচ: আমার বইগুলোর নাম শুনেই যে কেউ বুঝতে পারবে যে, আমার লেখা পাঠকেরা কেন পড়েন। আমিও আমার লেখার প্রতি তাদের চাহিদাকে সম্মান দিই। তাই আমি আমার লেখার বিষয় হিসেবে প্রেমকে বেশি প্রাধান্য দেই। এতে সমসাময়িক বাস্তবতা থেকে শুরু করে নিগুড় কাল্পনিক প্রেমও উঠে আসে। আমার কাছে মনে হয়, আমার লেখায় পাঠকেরা এটাই চায়। এজন্যে বললাম, আমার ‘প্রেমহীনা’ উপন্যাসটা তথাকথিত প্রেমের উপন্যাসের মতো নয়। এটি জনপ্রিয়তা পেলেও আমার বয়েসী অনেক পাঠকও আমাকে বলেছেন, আপনার ‘প্রেমলীলা’ উপন্যাস পড়ে বেশি আনন্দ পেয়েছি। তখনই আমি বুঝেছি, পাঠক আসলে কল্পকাহিনীর চেয়ে বাস্তব থেকে নেয়া গল্পকে বেশি পছন্দ করে। আমার প্রেমলীলা উপন্যাসটি ছিল রগরগে প্রেমের গল্প। সমকালীন কিছু ঘটনা উঠে এসেছিল এতে। তাই আমার কাছে মনে হয়, অন্তত আমার পাঠকেরা প্রেম নিয়ে পড়তে ভালোবাসেন।

সামগ্রিকভাবে মেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা জানতে চাই
অনুরূপ আইচ: বইমেলা আমার কাছে ভালো লাগে। আফসোস লাগে যে টাকার অভাবে অনেক সময় অনেক বই কিনতে পারি না। আমার কাছে মনে হয় যে, বইমেলা উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি হয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। অন্তত ডিজিটাল যুগেও যে বই বিক্রি হয় বইমেলাতে, তাতে আমি মুগ্ধ।

লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কিভাবে
অনুরূপ আইচ: শুরুতেই বলেছি, আমার লেখালিখির উৎসাহ আসে বাবার লেখালিখি দেখে। এরপরে আমার জীবনের সকল প্রেরণা যেন রবি ঠাকুরের বইগুলো।

লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
অনুরূপ আইচ: আমি বিশ্বাস করি, আমার লেখক জীবনের সকল প্রাপ্তি এসেছে শুধু মাত্র আল্লাহর স্পেশাল রহমতে। তিনি চেয়েছেন বলেই হয়ত আমি গন্ড গ্রাম থেকে একজন অনুজ্জ্বল ছাত্র হয়েও দেশের লেখালিখিতে একটা স্থান করতে পেরেছি। পশ্চিমবঙ্গেও আমার লেখা গল্প কবিতা নিয়মিত ছাপা হচ্ছে অনেক বছর ধরে। কাজেই আল্লাহ চাইলে আমি একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও লেখক হিসেবে খ্যাতি পাবো। যে কারণে, আমার মনের মত আরো বেশি বেশি লিখে যেতে চাই। অন্তত আমার পাঠকভক্তদের জন্যে হলেও আমি আরো বেশি বেশি লিখে যেতে চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here