আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: ‘নেভার হ্যাভ আই এভার’ সিরিজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠা মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন এখন হলিউডে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করছেন। ২৪ বছর বয়সী তামিল বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান এই অভিনেত্রী বর্তমানে নেটফ্লিক্সের নতুন চলচ্চিত্র ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং শুরু হওয়া ছবিটিতে তাঁর চরিত্রের নাম মায়া।
লিনা খানের পরিচালনায় নির্মিত ছবিটির গল্প দুই শৈশবের বন্ধুকে ঘিরে। মৈত্রেয়ীর মায়া ও প্রিয়াঙ্কা কেদিয়ার অঞ্জলি ইউসিএলএর একটি প্রতিযোগিতামূলক বলিউড-ফিউশন নাচের দলে যোগ দেয়। এরপর বন্ধুত্ব, পরিচয়, সংস্কৃতি ও প্রতিযোগিতার নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় গল্প।
ছবিটি করতে গিয়ে মৈত্রেয়ীকে নাচের জন্য কঠোর প্রশিক্ষণও নিতে হয়েছে। প্রায় চার মাসের প্রস্তুতিতে তাঁকে নিয়মিত নাচের ক্লাস করতে হয়েছে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ভরতনাট্যম শেখার অভিজ্ঞতাও তাঁর চরিত্রের জগৎকে বুঝতে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
তবে নতুন সিনেমার প্রচারণার পাশাপাশি মৈত্রেয়ীর আলোচনায় এসেছে হলিউডে দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে এই জায়গায় পরিবর্তন এসেছে। এখন কোনো চরিত্রকে শুধু তার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মাধ্যমে দেখানোর বদলে চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব, আচরণ ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মৈত্রেয়ী মনে করেন, অতীতে পর্দায় এমন কিছু দক্ষিণ এশীয় চরিত্রও এসেছে, যেগুলোর সঙ্গে এই অঞ্চলের অনেক দর্শক নিজেদের পুরোপুরি মেলাতে পারেননি। কিন্তু তাঁর দৃষ্টিতে সেসব উপস্থিতিও পরবর্তী সময়ে আরও বৈচিত্র্যময় প্রতিনিধিত্বের পথ তৈরি করতে ভূমিকা রেখেছে। অর্থাৎ পর্দায় উপস্থিতির ধারাবাহিকতাই ধীরে ধীরে গল্প বলার পরিসরকে বিস্তৃত করেছে।
তাঁর মতে, বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের আগের প্রজন্মকে দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী বড় চরিত্রের সুযোগ তো পানইনি, বরং পর্দায় ছোট কোনো পার্শ্বচরিত্রে জায়গা পাওয়ার জন্যও অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁদের সেই পথচলা ও সাফল্যই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও বড় সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।
‘নেভার হ্যাভ আই এভার’-এর সাফল্যের পর মৈত্রেয়ী তরুণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি পান। সিরিজটিতে দেবী বিশ্বকুমারের চরিত্রে অভিনয় করেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়। এরপর ‘ফ্রিকিয়ার ফ্রাইডে’-সহ আরও কিছু কাজের মাধ্যমে নিজের অভিনয় পরিসর বাড়িয়েছেন তিনি।
মৈত্রেয়ীর কাছে তাই শুধু পর্দায় দক্ষিণ এশীয় কোনো মুখ দেখা যাওয়াই যথেষ্ট নয়। তাঁর মতে, সেই চরিত্রের মধ্যে মানুষের বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি, পারিবারিক বাস্তবতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন থাকা জরুরি। কারণ একটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব মানে শুধু তাদের উপস্থিতি দেখানো নয়, বরং তাদের গল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরাও।
এই জায়গা থেকেই দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের নিজেদের গল্প নিজেদের মতো করে বলার সুযোগ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন মৈত্রেয়ী। তাঁর মতে, শিল্পীদের শুধু অন্যের লেখা চরিত্রে অভিনয় করেই থেমে থাকলে চলবে না; নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে গল্প বলার ক্ষেত্রও তৈরি করতে হবে।
‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’-এ মৈত্রেয়ীর কাজ সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের ধারাবাহিকতারই আরেকটি উদাহরণ। বলিউড-ফিউশন নাচ, বন্ধুত্ব ও তরুণ প্রজন্মের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি এরই মধ্যে নেটফ্লিক্সে দর্শকদের সামনে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন :