উদীয়মান তরুণ শিল্পী নাফিসা তাবাসসুম জুঁই

0
633

আনন্দ বিনোদন ডেস্ক : পৃথিবীতে ললিতকলার যতগুলো শাখা রয়েছে, তার মধ্যে সঙ্গীতই সর্বশ্রেষ্ঠ। সর্বশ্রেষ্ঠ বলছি কারণ যুগে যুগে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে মানা হয়েছে, অন্তত শাস্ত্রমতে আমরা যা পাই। আদিকাল থেকে প্রচলিত হলেও প্রতিটি যুগে বিশিষ্ট সঙ্গীতকারদের মাধ্যমে উত্তরোত্তর উন্নতি লাভ করেছে ললিতকলার এই শাখাটি। পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতায় বিভিন্ন ভাবে এগিয়ে চলেছে এই শিল্প। শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠই নয়, ললিতকলার সকল শাখার মধ্যে এই কলাটিই সবচেয়ে বেশি চর্চা করা হয়।

আমাদের দেশে প্রতি বছরই জনপ্রিয় সঙ্গীত উপহার দেওয়ার মাধ্যমে তারকাখ্যাতি পান কিছু সংখ্যক তরুণ শিল্পীরা। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও বেশ কয়েকজন তরুন-তরুনী শ্রোতাদের মন জয় করে শিল্পী স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে উদীয়মান একজন তরুন শিল্পী নাফিসা তাবাসসুম জুঁই।

শিল্পী নাফিসা তাবাসসুম জুঁই

মনি কিশোর এর কথা এবং সুরে “জানি আমায় ভুলে গেছো”, এম জে মিলন খান এর কথা এবং সুরে “বোঝাতে পারিনা”, “ভেরী বিউটিফুল”, আক্কাস আলী এর কথা এবং আলামিন খানের সুরে “আঠারোর বাঁধ”, শাহরিয়ার শাওনের কথা এবং সাকিবুল হাসান সুজনের সুরে “তোমার জন্য মনের আকাশ” সহ আরো অসংখ্য গানের মাধ্যমে ইতিমধ্যে দর্শকনন্দিত হয়েছেন উদীয়মান তরুণ এই শিল্পী।

তার “আমার যতো পাগলামি” এবং “ভালোবাসা হাত বাড়ালো” শিরোনামে নতুন দুটি গান মুক্তির অপেক্ষায়। আমার যতো পাগলামির রেকর্ড শেষ, খুব শিগগিরই অনলাইন প্লাটফর্মে গানটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এছাড়া ভালোবাসা হাত বাড়ালো গানটি খুব বড় ধামাকা নিয়ে আসছে।

নাফিসা তাবাসসুম জুঁই ২০০২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বাবা মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে জুঁই সবার বড়।

মাত্র ৪ বছর বয়স থেকে জুঁইর গানে হাতেখড়ি। মা ছিলেন তার প্রথম শিক্ষাগুরু, যিনি তাকে তার নিজের হারমোনিয়ামে সারগাম তুলিয়েছিলেন। এরপর মা’ই বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন সংগীত বিভাগে এবং তখনই গানে হাতে খড়ি হয় “শ্রদ্ধেয় খোদা বক্স সানু” স্যারের হাত দিয়ে। তিনিই পরবর্তীতে জুঁইকে যত্ন করে গান শেখাতেন।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে প্রশিক্ষণের পর, বিভিন্ন সংগঠনে গান চর্চা করতেন বলে কখনো পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ৬ বছর বয়সে চিলড্রেন লিটল থিয়েটার ট্রুপস এবং লোক নাট্যদলের সাথে যুক্ত হয়ে সংগীত চর্চা করতেন তিনি। পরবর্তীতে ছায়ানটে ভর্তি হয়ে সংগীতের যাত্রা টা আরও দীর্ঘায়িত করেন।

জুঁই ছোটবেলায় বিভিন্ন ছোট বড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ১ম, ২য়, ৩য় স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করতেন। প্রাপ্তির খাতায় যুক্ত আছে অনেক সম্মাননা এবং সনদপত্র। ২০১১ সালে জি বাংলা সারেগামাপা ঢাকায় অডিশন নিতে আসলে জুঁই সেরা ১২ এর মধ্যে অবস্থান করেন। এরপর ২০২০ সালে এটিএন বাংলা আগামীর তারকা তে ১ম রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। সর্বশেষ বাংলার গায়েনে সেরা ২০ এ ছিলেন।

পড়াশোনায় অনেক গুলো বছর পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যয়ন করছেন।

গান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গানটা আসলে রক্তে মেশা কারন ছোটবেলা থেকেই ওই পরিবেশে বড় হয়েছি। আমার মা ভালো গান করেন, আমার মায়ের ইচ্ছা ছিলো সে গান বাজনা করবে কিন্তু আমার নানু মাওলানা হওয়ায় সেটা আমার মা পারেনি, তার স্বপ্ন পূরনেই গানটা চালিয়ে যাচ্ছি”।

কি ধরনের গান বেশি পছন্দ এরকম প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “আমি মূলত ভার্সেটাইল সিঙ্গার। তবে আমার ব্যাসিক ক্লাসিকাল, আমি বেশী মেলোডিয়াস গান, আধুনিক গান এসবই বেশী করি। মূলত পুরোনো গান গুলো থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকি। শ্রদ্ধেয় আশা ভোঁসলে ম্যাম, লতা মঙ্গেশকর ম্যাম, মান্না দে স্যার, কিশোর কুমার স্যার, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্যার, মিতালি মুখার্জি ম্যাম, অনুরাধা পাড়োয়াল, চিত্রা সিং, পঙ্কজ উধাস, বাংলাদেশের সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, কনক চাঁপা ম্যাম, এন্ড্রু কিশোর স্যার এরকম সকল লিজেন্ডারি মানুষের গান থেকে অনুপ্রেরণা পাই”।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, “গান নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করার ইচ্ছা আছে সৎ ভাবে। তবে পাশাপাশি চাকরি করতে চাই। বাকীটা আল্লাহ ভরসা।”

জানা যায়, তিনি গানের পাশাপাশি আগে থিয়েটার এবং কোরিওগ্রাফ করতেন। কিন্তু এখন গান ছাড়া কোনো কিছুতেই নেই।

উদীয়মান এই তরুণ শিল্পীর চাওয়া, অন্যান্য দেশে যেমন মিউজিশিয়ানস এবং সিঙ্গারদেরকে ভাতা প্রদান করা হয়, সেরকম সম্মান বাংলাদেশেও দেয়া উচিত। এদেশে মিউজিশিয়ানস এবং সিঙ্গারদেরকে সম্মান দেয়া হয় না, সবাই ছোট চোখে দেখে। সরকারি উদ্যোগে শিশু একাডেমি বা শিল্পকলা একাডেমিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া উচিত। সহযোগিতা বলতে সুযোগ প্রয়োজন, সুযোগ না পেলে জায়গা করে নেয়া সম্ভব হবেনা। ফলে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিও ধ্বংসের পথে চলে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here