আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, খাবার ও গ্রামীণ জীবনের আবহকে একসঙ্গে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে মৌলভীবাজারে যাত্রা শুরু করেছে ‘টমি মিয়ার বারন্তি গ্রাম’। গত ২০ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের ওয়াপদা রোডে আয়োজন করা হয় এর সফট লঞ্চ বা প্রাথমিক উদ্বোধন। অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার, সিলেটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত হন।
উদ্বোধনী আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। তাঁকে ঘিরেও দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিল বাড়তি আগ্রহ। আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাইফুর রহমান স্টেডিয়াম থেকে ‘বারন্তি গ্রাম’ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য হাতি শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় হাতির পাশাপাশি ছিল মার্চিং ব্যান্ড এবং ঐতিহ্যবাহী ঢোল-বাদ্যের পরিবেশনা।
উৎসবমুখর এই আয়োজনে স্থানীয় সংস্কৃতি ও বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত করা হয় সংগীতকেও। ‘বারন্তি গ্রাম’-এর অফিসিয়াল থিম সং সরাসরি মঞ্চে পরিবেশন করেন পেশাদার গায়িকা ও টমি মিয়াজ হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (TMHMI)-এর শিক্ষার্থী মাইশা মালিহা তালুকদার।
বাউল ও লোকজ সুরের আবহে তৈরি গানটি পরিবেশনের সময় দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তৈরি হয় সমবেত গানের আবহ। থিম সংটির কথায় উঠে এসেছে ‘বারন্তি গ্রাম’-কে ঘিরে স্বপ্ন এবং টমি মিয়ার নিজের শেকড়ে ফিরে আসার গল্প।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, টমি মিয়ার কাছে ‘বারন্তি গ্রাম’ শুধু একটি খাবার বা বিনোদনকেন্দ্র নয়; বরং নিজের জন্মভূমি ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপনের একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন। গ্রামীণ জীবনের স্বাদ, ঐতিহ্য, আতিথেয়তা ও সংস্কৃতিকে মৌলভীবাজারের একটি গন্তব্যে একত্র করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘বারন্তি গ্রাম’-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ খাবার। এখানে টমি মিয়ার আতিথেয়তা ও খাদ্যভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগকে এক ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘চটপটি @ দ্য ব্রিকইয়ার্ড’, ‘বেজবাড়ি’, ‘দ্য ভিলেজ কিচেন’ এবং ‘আনিশা ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’।
খাবারের পাশাপাশি সংগীত, পারিবারিক বিনোদন, লোকজ ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানকে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্যও জায়গাটি একটি নতুন আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘বারন্তি গ্রাম’-এর এই যাত্রাকে শুধু একটি নতুন বিনোদনকেন্দ্রের উদ্বোধন হিসেবে নয়, মৌলভীবাজারের স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার ও ঐতিহ্যকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার একটি উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মৌলভীবাজারের প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে খাবার এবং বিনোদনের সমন্বয় ঘটিয়ে ‘টমি মিয়ার বারন্তি গ্রাম’ ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার ঠিকানা হয়ে উঠতে চায়। শেকড়ের স্বাদ ও গ্রামীণ আবহের এই আয়োজনের মাধ্যমে মৌলভীবাজারকে আরও নতুনভাবে জানার সুযোগ তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশাই আয়োজকদের।
আপনার মতামত লিখুন :