আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: মনিরুল ইসলাম মনির বাংলা টেলিভিশন নাটকের এক পরিচিত মুখ। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি নিয়মিতভাবে মিডিয়ায় কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০২ সালে অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করে ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ ও চলচ্চিত্রেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন এই অভিনেতা।
অভিনয়ের শুরুটা ছিল মঞ্চনাটক দিয়ে। ‘সেভডা’ নামের একটি নাট্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের ৬৪ জেলায় ঘুরে পথনাটক করেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই তার অভিনয়ের ভিত মজবুত করে। ২০০৪ সালে Channel i-এ প্রচারিত ‘ক্ষত’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে প্রথম কাজ শুরু করেন মনির। এরপর থেকে ব্যবসার পাশাপাশি নিয়মিত অভিনয়ে সক্রিয় রয়েছেন তিনি।
শুধু অভিনয়েই নয়, প্রযোজনাতেও নিজেকে যুক্ত করেন মনিরুল ইসলাম মনির। ২০১৭ সাল থেকে নাটক প্রযোজনা শুরু করে ২০২১ সাল পর্যন্ত শতাধিক নাটক নির্মাণ করেন। তবে আর্থিক জটিলতা ও কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে একপর্যায়ে প্রযোজনা থেকে বিরতি নেন। এরপরও অভিনয় চালিয়ে যান নিয়মিতভাবে।
২০২৫ সাল থেকে নতুন উদ্যমে আবারও প্রযোজনা ও অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি। তার প্রযোজিত নাটকের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০০ ছাড়িয়েছে। উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘নয় অভিনয়’, ‘ডিটেকটিভ লাভ’, ‘প্রবাসীর সংসার’, ‘সুসাইড পার্টনার’ এবং ‘মিস্টার মিসেস মিসটেক’।
অভিনেতা হিসেবেও রয়েছে তার বিস্তৃত কাজের তালিকা। ‘চুপিচুপি তুমি আমি’, ‘আলভিকা’, ‘চাকরি হবে কবে’, ‘মাফলার’, ‘প্রেমের প্যারা’, ‘জাল’, ‘হিরোর আগমন’, ‘নয়ন পাখি’, ‘প্রবাসীর নসিব’, ‘কাগজের ফুল’, ‘কলেজ রোড’, ‘ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট’ ও ‘প্রেম নগর’সহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া ওয়েব সিরিজ ‘ফার্মগেট’, ‘যদি আমি বেঁচে ফিরি’ এবং চলচ্চিত্র ‘বকুল কথা’, ‘রাজকুমার’, ‘গাংচিল’-এও কাজ করেছেন।
টেলিভিশনের বাইরে ছোটবেলা থেকেই মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মনিরুল ইসলাম মনির। নিজ জেলাতেও একটি নাট্য সংগঠন গড়ে তুলে নিয়মিত নাট্যচর্চা চালিয়ে গেছেন তিনি। অভিনয় ও প্রযোজনার সমন্বয়ে নতুন করে পথচলা শুরু করা এই অভিনেতা ভবিষ্যতে আরও মানসম্মত কাজ উপহার দিতে চান। তার ভাষায়, দর্শকদের জন্য ভালো গল্প ও গুণগত মানসম্পন্ন নির্মাণে কাজ করাই তার লক্ষ্য।
আপনার মতামত লিখুন :