আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: মানবদেহের সঠিক কার্যক্রম পরিচালনায় পানির ভূমিকা অপরিসীম। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া সচল রাখা, রক্তচাপ ঠিক রাখা এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত জরুরি। এমনকি ত্বকের সতেজতা ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও অনেকাংশে পানির ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার পানি পান করা উচিত। তবে এই পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে পানির চাহিদা বাড়তে বা কমতে পারে। গরমে বা যারা বেশি পরিশ্রম করেন, তাদের শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বেশি পানি বেরিয়ে যায়, ফলে তাদের তুলনামূলক বেশি পানি পান করা প্রয়োজন হয়।
অনেক সময় সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেখা যায়, যা বাস্তবে সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত পানি পান করাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সাধারণ অবস্থায় দৈনিক সর্বোচ্চ চার লিটার পর্যন্ত পানি পান যথেষ্ট।
শিশুদের ক্ষেত্রেও পানি পানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলগামী শিশুদের দিনে অন্তত দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। তবে অবশ্যই নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান নিশ্চিত করতে হবে, কারণ দূষিত পানি থেকে টাইফয়েড, ডায়রিয়া বা হেপাটাইটিসের মতো রোগের ঝুঁকি থাকে।
বিশুদ্ধ পানি পানের জন্য পানি ফুটিয়ে নেওয়া একটি সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি। এছাড়া যারা সক্ষম, তারা আধুনিক ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
খাবার খাওয়ার সময় বা আগে-পরে পানি পান নিয়েও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, খাবারের সময় অল্প পরিমাণ পানি পান করা যায়, তবে অতিরিক্ত পানি পান করে খাবার গিলে ফেলা উচিত নয়। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া হজমের জন্য বেশি উপকারী।
সব মিলিয়ে, শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত ও পরিমিত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির ঘাটতি যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত পানিও শরীরের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :