আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে বসতে যাচ্ছে নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় আসর। ২০২৫ সালে প্রথমবার আয়োজনের পর এবারও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতাদের কাছ থেকে বাংলা চলচ্চিত্র আহ্বান করেছে আয়োজকেরা। এবারের উৎসবে শর্টফিল্ম, ডকুমেন্টারি ফিল্ম, ওয়েবফিল্ম ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এই চার বিভাগে কাজ জমা দেওয়া যাবে। নির্বাচিত চলচ্চিত্র ও নির্মাতাদের জন্য থাকবে বিভিন্ন পুরস্কার।
উৎসবের আহ্বায়ক ও প্রযোজক অলিভ আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। প্রথম আসরে দর্শক ও নির্মাতাদের কাছ থেকে পাওয়া সাড়া তাঁদের নতুন আয়োজনকে আরও এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করেছে। এবারের চলচ্চিত্র নির্বাচন ও মূল্যায়নের জন্য অভিজ্ঞ জুরি বোর্ড কাজ করবে। উৎসব পরিচালক হিসেবে রয়েছেন পিকলু চৌধুরী এবং প্রোগ্রাম পরিচালক তানভীর খায়ের।
উৎসবের সদস্যসচিব লিটু আনাম বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন যেসব নির্মাতা ও শিল্পী, তাঁদের কাজকে মূল্যায়নের পাশাপাশি সমসাময়িক নির্মাতাদের সৃষ্টিও আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চান তাঁরা।
তিনি বাংলাদেশের নির্মাতা ও প্রযোজকদের ২০২৬ সালে নির্মিত তাঁদের সেরা কাজগুলো উৎসবে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। MOV অথবা MP4 ফরম্যাটে চলচ্চিত্র জমা দেওয়া যাবে। নির্মাতারা Google Drive লিংক submit@nybanglaff.org ঠিকানায় পাঠাতে পারবেন। পাশাপাশি FilmFreeway প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও চলচ্চিত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, উৎসবটি আগামী বছরের শুরুতে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ ও ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে উৎসবের ওয়েবসাইট ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় আসরটি আয়োজন করছে রক পেপার সিজার এন্টারটেইনমেন্ট। এতে যৌথ সহযোগিতায় রয়েছে প্রিয়জন ফিল্মস ও লেমন স্টুডিও। সার্বিক সহযোগিতায় থাকছে আমেরিকান বাংলাদেশি প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (এবিপিএ)।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের উৎসবে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলা ভাষার নির্মাতারাও তাঁদের চলচ্চিত্র জমা দেবেন। এর মাধ্যমে নিউ ইয়র্কে বাংলা সিনেমার জন্য আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও প্রদর্শনীর ক্ষেত্র তৈরি হবে।
আপনার মতামত লিখুন :