আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের নাট্যজগতের অন্যতম অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার, সহকর্মী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।
হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ রাজধানীর মগবাজারের বাসায় নেওয়া হয়েছে, যেখানে স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করছেন। বাদ জোহর জানাজা শেষে মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। সেখানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাখা হবে তার মরদেহ। পরে বনানী কবরস্থানে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বাসায় পড়ে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রথমে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও আইসিইউ সুবিধার জন্য পরে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কিছুটা উন্নতির পর আবার অবস্থার অবনতি হলে শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৪১ সালে নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান ছিলেন নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠক হিসেবে সমানভাবে খ্যাত। তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং স্বাধীনতার পর দেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার নির্দেশনায় মঞ্চস্থ অসংখ্য নাটক আজও দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার অর্জন করেন। তার মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :