আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও সরব হয়ে উঠেছে এফডিসি। ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং দুই প্যানেল—মুক্তি-আরমান পরিষদ ও শিবা শানু-জয় চৌধুরী পরিষদ—প্রচারণা শুরু করেছে। শুরুতে বাপ্পারাজ ও রোমানা ইসলাম মুক্তি একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বাপ্পারাজ সরে দাঁড়ান। তার পরিবর্তে সভাপতি পদে প্রার্থী করা হয় আরমানকে।
এবারের নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বরেণ্য অভিনেত্রী নূতন। তবে নির্বাচন নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নূতন বলেন, ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে মুক্তি-আরমান পরিষদের অনুরোধ রাখতেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ভাষায়, শিল্পী সমিতির পদ নিয়ে অনেকের আগ্রহ থাকলেও নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকেই দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। তিনি অভিযোগ করেন, চলচ্চিত্র অঙ্গনে এখন দলীয় বলয় ও সিন্ডিকেটের প্রভাব বেড়েছে এবং অসুস্থ বা সংকটে থাকা অনেক প্রবীণ শিল্পীও সহকর্মীদের প্রত্যাশিত সহযোগিতা পান না।
নূতন আরও বলেন, একসময় চলচ্চিত্রের নতুন শিল্পীরা সিনিয়রদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের পরিবর্তন হয়েছে। তার মতে, শিল্পীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানবোধ আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে শিবা শানু-জয় চৌধুরী পরিষদ থেকে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন চিত্রনায়িকা রোজিনাও। তিনিও মনে করেন, বর্তমান সময়ে শিল্পী সমিতির নির্বাচন নয়, চলচ্চিত্র শিল্পকে ঘুরে দাঁড় করানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষায়, নতুন সিনেমা নির্মাণ বাড়ানো, প্রযোজকদের উৎসাহিত করা এবং শিল্পীদের নিয়মিত কাজের সুযোগ তৈরি করাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
রোজিনা বলেন, অনেক জুনিয়র শিল্পী আর্থিক সংকট ও অসুস্থতার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনার চেয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং চলচ্চিত্র শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণই সময়ের দাবি। তিনি মনে করেন, শক্তিশালী চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে উঠলেই শিল্পী সমিতির কার্যক্রমও আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
আপনার মতামত লিখুন :