আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। একসময় এই নির্বাচন ছিল দেশের শীর্ষ তারকাদের অংশগ্রহণে জমজমাট আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু। যদিও এবার প্রার্থী তালিকায় বড় তারকাদের উপস্থিতি নেই, তবুও নির্বাচনী প্রচারণা ও শিল্পীদের সরব উপস্থিতিতে এফডিসিতে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ।
এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আরমান–রুমানা ইসলাম মুক্তি পরিষদের বিপরীতে লড়ছেন শিবা সানু–জয় চৌধুরী পরিষদ। দুই প্যানেলেই সহসভাপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সম্পাদকীয় ও কার্যনির্বাহী পরিষদের পদে পরিচিত শিল্পীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিদিনই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।
নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, একসময় যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের জনপ্রিয় তারকারা নেতৃত্ব দিতেন, এবার সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ফলে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, শিল্পী সমিতির নির্বাচন কি আগের মতো গুরুত্ব ধরে রাখতে পেরেছে? আবার অন্য একটি পক্ষের মত, নতুন নেতৃত্বই শিল্পীদের সমস্যা সমাধান ও সংগঠনকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।
যদিও প্রার্থী তালিকায় বড় তারকার সংখ্যা কম, তবুও নির্বাচনী মাঠে দেখা মিলছে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের। আলীরাজ, নূতন, রোজিনা, নাসরিন, জ্যাকি আলমগীর, ইলিয়াস কোবরাসহ অনেক পরিচিত মুখ প্রতিদিনই প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বর্তমান সভাপতি মিশা সওদাগর, চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ ও ওমর সানীকেও বিভিন্ন সময় নির্বাচনী পরিবেশে দেখা গেছে। কেউ প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ শিল্পীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন।
নির্বাচন ঘিরে এফডিসিতে গণমাধ্যমকর্মী ও অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাদের উপস্থিতিও বেড়েছে। শিল্পীদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন আলোচনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। পুরো প্রাঙ্গণে দর্শনার্থী ও সমর্থকদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচনী ব্যস্ততার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এফডিসির ক্যান্টিনেও। ক্যান্টিন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাধারণ সময়ের তুলনায় এখন প্রতিদিন বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। তাদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব এমন হবে যারা চলচ্চিত্র শিল্পী ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৫৭৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামী দুই বছরের জন্য শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু, খোরশেদ আলম খসরু এবং বি এইচ নিশান।
আপনার মতামত লিখুন :