আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: ইতালির ভেনিসে সপরিবারে হামলা ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাঁধনের অভিযোগ, হামলার সঙ্গে নিজেদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজন জড়িত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তাঁর ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী এবং তাঁদের শিশুসন্তানও হয়রানি ও হামলার শিকার হয়েছেন। বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি।
বাঁধন বলেন, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব।’ তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনকে এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
অভিনেত্রী জানান, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তাঁকে সহযোগিতা করেছে। এমনকি নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ তাঁকে একটি নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয় বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন বলে জানান বাঁধন।
বাঁধনের ভাষ্য, ‘আমাদের কাছে সমস্ত এভিডেন্স আছে এবং আমরা এরই মধ্যে অনেকজনকে আইডেন্টিফাই করেছি।’ তিনি জানান, বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
এদিকে আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বাঁধনের ঘটনায় ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল তাঁর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তাঁকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিজের মানসিক দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেছেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মাথা কখনো নত করিনি। আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়। বাঁধন সাহস হারানোর জন্য জন্মায়নি।’ একই সঙ্গে সংকটের সময়ে পাশে দাঁড়ানো দেশের মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বাঁধন তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সে সময় বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানো তাঁর জীবনের নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি এবং এ কারণে নিজেকে ‘গর্বিত জুলাইযোদ্ধা’ মনে করেন।
তবে নিজের ওপর হামলার চেয়েও ছোট ভাই, তাঁর স্ত্রী ও শিশুসন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তাঁকে বেশি কষ্ট দিয়েছে বলে জানান বাঁধন। তাঁর ভাষায়, পরিবারের সদস্যদের যেভাবে হয়রানি ও হামলার শিকার হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
ভেনিসে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনাটি ইতালীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
সবশেষে বাঁধন আবারও তাঁর আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটা শেষ, আমি দেখে ছাড়ব।’
আপনার মতামত লিখুন :