• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
anandabinodon.

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সহায়ক ১০ খাবার, স্মৃতি ও মনোযোগের জন্য যা রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়


FavIcon
আনন্দ বিনোদন
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 15, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগ্রহীত ad728

আনন্দ বিনোদন ডেস্ক:  প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত ঘুম ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেরই মনোযোগ ধরে রাখা কিংবা প্রয়োজনীয় বিষয় মনে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। মস্তিষ্কের সুস্থতার সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক রয়েছে তবে কোনো একটি খাবার খেলেই স্মৃতিশক্তি হঠাৎ বেড়ে যাবে, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

গবেষণায় বরং দেখা গেছে, মাছ, শাকসবজি, বেরি, বাদাম, শস্য ও অলিভ অয়েলের মতো খাবারসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে Mediterranean ও MIND ধরনের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বেশ কিছু গবেষণায় ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেলেও এর প্রমাণ এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়।

মস্তিষ্কের জন্য সহায়ক হতে পারে এমন ১০টি খাবার ও খাবারের ধরন জেনে নেওয়া যাক:

১. তৈলাক্ত মাছ

স্যালমন, সার্ডিন, ম্যাকারেলসহ তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। মাছকে Mediterranean ও MIND ধরনের খাদ্যাভ্যাসে নিয়মিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে মাছ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

২. ডিম

ডিম কোলাইনের একটি ভালো খাদ্য উৎস। কোলাইন শরীরে কোষের গঠন ও বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে প্রয়োজনীয় এবং অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। অ্যাসিটাইলকোলিন স্মৃতি, মেজাজ ও স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ডিমকে এককভাবে ‘স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর খাবার’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে খাওয়াই যুক্তিযুক্ত।

৩. বেরি জাতীয় ফল

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরির মতো ফলে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। MIND খাদ্যাভ্যাসে অন্যান্য ফলের তুলনায় বেরিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়মিত ফল খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

৪. অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে রয়েছে অসম্পৃক্ত চর্বি, ফাইবার ও বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। হৃদ্‌স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি ভালো বিকল্প হতে পারে। যেহেতু মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যও সামগ্রিক হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস হিসেবে অ্যাভোকাডো খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

৫. সবুজ শাক

পালং শাক, কেলসহ বিভিন্ন সবুজ পাতাযুক্ত শাকে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। MIND খাদ্যাভ্যাসে সবুজ শাককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিছু গবেষণায় এ ধরনের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ধীরগতির জ্ঞানীয় অবনতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

৬. সামুদ্রিক শৈবাল

সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকতে পারে। তবে এর পুষ্টিমান প্রজাতি ও পরিমাণভেদে ভিন্ন হয়। তাই ‘আইকিউ বাড়ায়’ বা সরাসরি বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি করে এ ধরনের দাবি না করে এটিকে বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকার একটি সম্ভাব্য উপাদান হিসেবে দেখা ভালো।

৭. ডার্ক চকোলেট

কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেটে ফ্ল্যাভানলসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। তবে চকোলেটের ধরন, কোকোর পরিমাণ ও চিনি সবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতিরিক্ত না খেয়ে তুলনামূলক বেশি কোকো এবং কম চিনি থাকা ডার্ক চকোলেট পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

৮. আখরোট

আখরোটে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবার ও বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। MIND খাদ্যাভ্যাসেও বাদামকে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

৯. হলুদ

হলুদের প্রধান সক্রিয় যৌগগুলোর একটি হলো কারকিউমিন। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারে বিষণ্নতার উপসর্গ কিছুটা কমার সম্ভাবনা দেখা গেলেও গবেষকেরা ফলাফলকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আরও উচ্চমানের গবেষণার প্রয়োজনের কথা বলেছেন।

তাই হলুদকে বিষণ্নতার চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

১০. অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল Mediterranean খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সবজি, মাছ, বাদাম ও পূর্ণশস্যের সঙ্গে পরিমিত অলিভ অয়েলসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্যভাবে উপকারী বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তবে অলিভ অয়েল একাই স্মৃতিশক্তি বাড়ায় বা আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধ করে এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

খাবারের পাশাপাশি পুরো খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ

মস্তিষ্ক ভালো রাখতে শুধু কয়েকটি ‘সুপারফুড’ বেছে নেওয়ার চেয়ে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য, ডাল, বাদাম, মাছ ও স্বাস্থ্যকর চর্বিকে খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি, লবণ, অতিপ্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার কমানো যেতে পারে।

একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং রক্তচাপ ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণও মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি যদি দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতি বা মনোযোগের সমস্যায় ভোগেন, তাহলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো একটি খাবারকে ‘ম্যাজিক সমাধান’ হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদে বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা।