গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মানুষ কোনো উদ্দীপনা ছাড়া সময় কাটায়, তখন মস্তিষ্ক নিজেই নতুন চিন্তা ও ধারণা তৈরি করতে শুরু করে। এই অবস্থায় মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ, যাকে Default Mode Network বলা হয়, সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে মানুষ নিজের জীবন, লক্ষ্য ও সমস্যাগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার আমাদের মস্তিষ্ককে সবসময় বাহ্যিক উদ্দীপনায় ব্যস্ত রাখে। এতে Dopamine নিঃসরণের মাধ্যমে সাময়িক আনন্দ পাওয়া গেলেও ধীরে ধীরে মনোযোগ কমে যায় এবং সাধারণ কাজেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। ফলে উদ্বেগ, অস্থিরতা এমনকি বিষণ্নতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, বিরক্ত লাগলেই ফোন হাতে না নিয়ে কিছু সময় নিজের মতো থাকতে। যেমন—নিরিবিলি হাঁটা, কোনো গান বা পডকাস্ট ছাড়া ড্রাইভ করা, অথবা কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকা। এই সময়টুকু মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয় এবং নতুন চিন্তার পথ খুলে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট এই অভ্যাস গড়ে তুললে সৃজনশীলতা বাড়ে, মনোযোগ শক্তিশালী হয় এবং মানসিক চাপ কমে। তাই একঘেয়েমিকে এড়িয়ে না গিয়ে বরং তাকে কাজে লাগানোই হতে পারে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার একটি সহজ উপায়।
আপনার মতামত লিখুন :