আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: ChatGPT বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তিগুলোর একটি। এটি শুধু একটি সাধারণ চ্যাটবট নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এমন একটি প্রযুক্তি, যা মানুষের ভাষা বুঝে স্বাভাবিকভাবে উত্তর দিতে সক্ষম। শিক্ষা, সাংবাদিকতা, গবেষণা, ব্যবসা, প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কাজেও এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্রযুক্তি।
চ্যাটজিপিটি প্রথমবার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর। এটি তৈরি করেছে মার্কিন প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান OpenAI। প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই এর ব্যবহারকারী সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা প্রযুক্তি ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
ওপেনএআই প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে। এর সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রয়েছেন Sam Altman, Elon Musk, Greg Brockman, Ilya Sutskever এবং Wojciech Zaremba। বর্তমানে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্যাম অল্টম্যান।
চ্যাটজিপিটি মূলত “জেনারেটিভ প্রি-ট্রেইন্ড ট্রান্সফরমার” বা GPT প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি একটি বৃহৎ ভাষা মডেল, যা বিপুল পরিমাণ বই, নিবন্ধ, ওয়েবসাইট ও তথ্য বিশ্লেষণ করে ভাষার ধরন শিখে নেয়। ব্যবহারকারী কোনো প্রশ্ন করলে এটি সেই প্রশ্নের অর্থ বুঝে সম্ভাব্য সবচেয়ে উপযুক্ত উত্তর তৈরি করে।
বর্তমানে চ্যাটজিপিটি শুধু লেখালেখি নয়, বরং ছবি তৈরি, ভয়েস কথোপকথন, কোড লেখা, অনুবাদ, গবেষণা সহায়তা, তথ্য বিশ্লেষণ, কনটেন্ট তৈরি এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মতো কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হয়েছে। শুরুতে GPT-3.5 মডেল ব্যবহৃত হলেও পরে যুক্ত হয়েছে GPT-4, GPT-4o এবং আরও উন্নত সংস্করণ।
বিশ্বব্যাপী চ্যাটজিপিটির গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে এর সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা ২০ কোটির বেশি ছাড়িয়ে যায়। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমও এখন AI প্রযুক্তিকে তাদের কার্যক্রমে যুক্ত করছে।
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমেও চ্যাটজিপিটির ব্যবহার বাড়ছে। সংবাদ লেখা, তথ্য যাচাই, অনুবাদ, স্ক্রিপ্ট তৈরি এবং শিরোনাম তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, AI-নির্ভর তথ্য সবসময় শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে। তাই মানবীয় যাচাই এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রযুক্তিটির জনপ্রিয়তার পাশাপাশি কিছু উদ্বেগও রয়েছে। ভুল তথ্য প্রদান, শিক্ষাক্ষেত্রে অপব্যবহার, চাকরির বাজারে প্রভাব এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে প্রযুক্তি বিশ্বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের কাজের ধরন বদলে দেবে এবং চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও বড় ভূমিকা পালন করবে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের অনেকে একে “AI বিপ্লবের সূচনা” বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।
আপনার মতামত লিখুন :