আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: অভিধানে চৈত্রকে মধুমাস বলা হলেও বাঙালির কাছে জ্যৈষ্ঠই প্রকৃত মধুমাস। এই সময়টায় গ্রামবাংলার গাছে গাছে পাকা ফলের সমারোহে ভরে ওঠে চারপাশ। আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, আনারসসহ অসংখ্য ফলের উপস্থিতিতে প্রকৃতি যেন হয়ে ওঠে রঙিন ও প্রাণবন্ত। বাংলাদেশে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়কে ফলের মৌসুম বলা হয়, যখন অধিকাংশ ফল একসঙ্গে পাওয়া যায় ।
একসময় বাড়ির আঙিনা, ক্ষেতের আল বা বনজঙ্গলেই স্বাভাবিকভাবে জন্মাত এসব ফলগাছ। শিশু-কিশোরদের জন্য গাছ থেকে ঝরে পড়া ফল কুড়িয়ে খাওয়ার আনন্দ ছিল আলাদা। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই বদলে গেছে। আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে বামন গাছ, বাণিজ্যিক বাগান ও ছাদবাগানের প্রসার ঘটেছে। এতে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক লাভ বাড়লেও হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সেই সহজ সম্পর্ক।
জ্যৈষ্ঠ মানেই শুধু ফলের স্বাদ নয়, বরং স্মৃতিরও ভাণ্ডার। কাঁচা-পাকা আম মেখে খাওয়া, পাকা কাঁঠালের ঘ্রাণ, লিচুর রসে ভেজা দুপুর কিংবা ঝরে পড়া জামের জন্য পাখির সঙ্গে প্রতিযোগিতা—এসব ছিল গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এখন ফল রক্ষার জন্য জাল, বিষটোপ কিংবা বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য পরিবেশ হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। এতে প্রকৃতির ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
অন্যদিকে বাজারে আগাম ফল বিক্রির প্রবণতা এবং রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে ফলের স্বাদ ও পুষ্টিগুণও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অপরিপক্ব ফল পাকাতে কৃত্রিম উপাদান এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে ভোক্তারা যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফল শুধু মানুষের ভোগের জন্য নয়, বরং প্রকৃতির সামগ্রিক ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ফল উৎপাদন এবং প্রাণীকুলের জন্য সহনশীল আচরণ নিশ্চিত করলেই জ্যৈষ্ঠের সেই চিরচেনা মধুমাসকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
আপনার মতামত লিখুন :