আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে দেশের ফ্যাশন জগতে নেমেছে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস বৈশাখ উপলক্ষে এনেছে নতুন সংগ্রহ, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক সব পোশাক। ডিজাইনারদের মতে, এবারের কালেকশনে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও প্রকৃতির রঙ।
বিশ্বরঙ–এর স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহা জানান, এবারের ডিজাইনে গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক ‘টেপা পুতুল’ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাটির লাল, পাতা সবুজ, আকাশি নীলসহ প্রকৃতির নানা রঙ পোশাকে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে সাতকাহন–এর স্বত্বাধিকারী নূরুন্নাহার নীলা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী নকশার সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে এবারের পোশাক, যেখানে কাপল সেটের মতো নতুন ধারাও যুক্ত হয়েছে।
বৈশাখের পোশাকে লাল-সাদার আবেদন বরাবরের মতোই অটুট। টাঙ্গাইলের সাদা শাড়ি, খাদি বা কাতান শাড়িতে লাল পাড় কিংবা ব্লক প্রিন্ট এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর পাশাপাশি ব্রিক রেড, ম্যাজেন্টা, কোরালসহ নানা রঙের ব্যবহার পোশাকে এনে দিয়েছে ভিন্নতা। নকশার ক্ষেত্রে পাখি, ফুল, সূর্য, আলপনার মতো লোকজ মোটিফের পাশাপাশি নকশিকাঁথা ও জামদানির প্রভাবও স্পষ্ট।
কে ক্র্যাফট–এর কর্ণধার খালিদ মাহমুদ খান জানান, এবারের ডিজাইনে লোকজ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোটিফ, ইক্কাত, রিকশা আর্টসহ নানা উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে রঙ বাংলাদেশ–এর স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, তাদের সংগ্রহ দুটি আলাদা থিমে সাজানো হয়েছে, যেখানে গ্রামীণ মেলা ও শিল্পচর্চার প্রভাব ফুটে উঠেছে।
শাড়ির পাশাপাশি কুর্তি, আনারকলি, ফিউশন টপস ও লং ড্রেসও এবার জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবির পাশাপাশি ফতুয়া ও কুর্তার ব্যবহার বেড়েছে। গরমের কথা মাথায় রেখে কটন, লিনেন, হ্যান্ডলুমসহ আরামদায়ক কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে এসব পোশাকে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড শোরুম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এক হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার মধ্যে এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :