আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম ফিডব্যাক। ১৯৭৭ সালের অক্টোবরে ‘ফিডব্যাক টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি’ নামে যাত্রা শুরু করা দলটি ১৯৭৯-৮০ সালের দিকে সংক্ষিপ্ত হয়ে ‘ফিডব্যাক’ নামে পরিচিতি পায়। দীর্ঘ পাঁচ দশকের পথচলায় ‘মৌসুমী’, ‘মেলা’, ‘চিঠি’, ‘ময়ূরী আকাশ’ ও ‘ফিরে এসো’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছে ব্যান্ডটি। এবার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নতুন গান, কনসার্ট ও তথ্যচিত্রসহ নানা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে দলটি।
সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফিডব্যাকের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ‘ফিডব্যাক: ৫০ নট আউট’ শিরোনামের এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন অ্যালবাম প্রকাশ। ব্যান্ডটির সর্বশেষ অ্যালবাম ‘এখন’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। নতুন অ্যালবামের জন্য এরই মধ্যে ছয়টি গানের কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৭ সালের অক্টোবরে সুবর্ণজয়ন্তীর মূল পর্বের আগেই অ্যালবামটি প্রকাশ করতে চায় দলটি।
নতুন অ্যালবামের পাশাপাশি পুরোনো জনপ্রিয় গানগুলোও নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে ফিডব্যাকের। এসব গানে অন্য ব্যান্ডের সদস্য কিংবা একক সংগীতশিল্পীদের যুক্ত করার কথা ভাবছেন তাঁরা। এর মাধ্যমে কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে পরিচিত গানগুলো নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ শ্রোতাদের মধ্যেও ফিডব্যাকের সংগীতকে আরও ছড়িয়ে দিতে চায় ব্যান্ডটি।
সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে দেশ-বিদেশে একাধিক কনসার্ট আয়োজন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম আয়োজন হবে চট্টগ্রামে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে কনসার্ট করার মধ্য দিয়ে এগোবে বছরব্যাপী কর্মসূচি। এসব আয়োজনে ফিডব্যাকের সাবেক সদস্যদেরও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবশেষে ২০২৭ সালের অক্টোবরে ঢাকায় সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উদ্যাপন।
ফিডব্যাকের পাঁচ দশকের সংগীতযাত্রা তুলে ধরতে নির্মাণ করা হবে প্রায় ২৫ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র। এতে ব্যান্ডটির সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা অংশ নেবেন। তাঁদের স্মৃতিচারণ, অভিজ্ঞতা এবং সংগীতজীবনের নানা অজানা অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে দলটির দীর্ঘ পথচলা, পরিবর্তন ও সাফল্যের গল্প।
সংবাদ সম্মেলনে ফিডব্যাকের অন্যতম সদস্য ফোয়াদ নাসের বাবু বলেন, পাঁচ দশক ধরে শ্রোতাদের ভালোবাসা নিয়ে টিকে থাকা ব্যান্ডটির জন্য আনন্দের বিষয়। এই যাত্রা শুধু বর্তমান সদস্যদের নয়; এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অসংখ্য সাবেক সদস্য, গীতিকার, সুরকার এবং সর্বোপরি শ্রোতারা। সবার অবদান ও ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, নতুন গান ও পুরোনো স্মৃতির মেলবন্ধনে সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চান তাঁরা।
তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। প্রতিটি কর্মসূচিতে নতুন কিছু রাখার চেষ্টা থাকবে। তাঁর মতে, একটি প্রতিষ্ঠানকে যেমন যত্ন নিয়ে গড়ে তুলতে হয়, তেমনি একটি ব্যান্ডকেও লালন ও সংরক্ষণ করতে হয়। ফিডব্যাকের দীর্ঘ পথচলার পেছনেও রয়েছে সেই দায়বদ্ধতা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মাইলস ব্যান্ডের হামিন আহমেদ, অবসকিওর ব্যান্ডের সাইদ হাসান টিপু, সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম, গীতিকার শহীদ মাহমুদ জঙ্গীসহ সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের বক্তব্য ও স্মৃতিচারণে উঠে আসে ফিডব্যাকের দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা অধ্যায়।
পাঁচ দশকের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই ফিডব্যাকের এই সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজন। নতুন অ্যালবাম, পরিচিত গানের নতুন রূপ, কনসার্ট ও তথ্যচিত্রের মধ্য দিয়ে ব্যান্ডটি তার দীর্ঘ সংগীতযাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে চায়।
আপনার মতামত লিখুন :