• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Bongosoft Ltd.

স্মার্টফোন আসক্তি কি অকালে বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?


FavIcon
আনন্দ বিনোদন
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 23, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগ্রহীত ad728

স্বাস্থ্য ডেস্ক: আধুনিক জীবনে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন সঙ্গী হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার এখন নতুন এক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘসময় স্ক্রিনে চোখ রাখার ফলে শরীর ও মস্তিষ্কে এমন পরিবর্তন ঘটছে, যা মানুষকে অকাল বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের এলইডি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো ঘুমের জন্য দায়ী Melatonin হরমোনের উৎপাদন ব্যাহত করে। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমচক্র বা Circadian Rhythm নষ্ট হয়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ডিজিটাল আসক্তি শরীরের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হতে পারে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ইনফ্ল্যামেটরি এজিং’ বলে থাকেন। এই অবস্থা ভবিষ্যতে Dementia বা Alzheimer's disease-এর মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন মস্তিষ্কে বারবার ডোপামিন নিঃসরণ ঘটায়, যা ধীরে ধীরে এক ধরনের আসক্তির রূপ নেয়। ফলে মানুষ অজান্তেই ফোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেমন—

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া
  • ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখা
  • বিকেলের পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা
  • নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা

সচেতন ব্যবহারই পারে প্রযুক্তির সুবিধা বজায় রেখে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের রক্ষা করতে।