• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
anandabinodon.

আইয়ুব বাচ্চুর গান নিয়ে ‘উত্তরাধিকার’, অদিতের ‘ঘুমন্ত শহরে’ ঘিরে সমালোচনা


FavIcon
আনন্দ বিনোদন
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 23, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগ্রহীত ad728

আনন্দ বিনোদন ডেস্ক:  প্রয়াত ব্যান্ড আইকন আইয়ুব বাচ্চুর গান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে প্রকাশ পেয়েছে বিশেষ অ্যালবাম ‘উত্তরাধিকার’। আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় ২০টি গান নতুন সংগীতায়োজনে পরিবেশন করেছেন দেশের আটটি ব্যান্ড ও ১২ জন শিল্পী। অ্যালবামটি ডাবল সিডির পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প থেকে পাওয়া অর্থ আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম তৈরির কাজে ব্যয় করা হবে।

আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন ১৬ আগস্ট উপলক্ষে অ্যালবামটির গান প্রকাশ শুরু হয়। প্রথম গান হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘রুপালি গিটার’, যাতে কণ্ঠ দিয়েছেন বাপ্পা মজুমদার। এরপর ধাপে ধাপে আরও গান প্রকাশিত হয়েছে। অ্যালবামে ‘চলো বদলে যাই’, ‘নীল বেদনা’, ‘মাধবী’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘ফেরারি এই মন’সহ তাঁর বেশ কিছু জনপ্রিয় গান নতুন আয়োজনে রাখা হয়েছে।

তবে গানগুলো প্রকাশের পর বিশেষ করে ‘ঘুমন্ত শহরে’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। গানটির নতুন সংগীতায়োজনের পাশাপাশি গায়কীর ধরনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইয়ুব বাচ্চুর ভক্তদের একাংশ মনে করছেন, নতুনভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে মূল গানের আবেগ ও আবেদন অনেকটাই বদলে গেছে। কেউ কেউ গানটি সরিয়ে নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।

ইউটিউবের মন্তব্যে কয়েকজন শ্রোতা গানটির নতুন উপস্থাপনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কেউ মনে করছেন, আইয়ুব বাচ্চুর গানের মূল আবেগ যথাযথভাবে ধরে রাখা হয়নি। আবার অন্যদিকে প্রকল্পটির সামগ্রিক উদ্দেশ্য ও নতুন সংগীতায়োজনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এমন শ্রোতাও রয়েছেন।

আইয়ুব বাচ্চুর গান নিয়মিত কাভার করা শিল্পী মোল্লা বাবুও ‘ঘুমন্ত শহরে’ নিয়ে নিজের মত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, গানটি যদি অদিতের নিজস্ব গান হতো, তাহলে সংগীতের দিক থেকে এটিকে সুন্দর বলা যেত। কিন্তু এটি আইয়ুব বাচ্চুর গান হওয়ায় মূল গানের আবেদন ও আবেগের বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত ছিল।

এদিকে ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্পকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে আইয়ুব বাচ্চুর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও গিটারিস্ট আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নাম। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রকল্পটির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এর কোনো সিদ্ধান্ত বা কাজের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই।

মাসুদ বলেন, আইয়ুব বাচ্চুর গান কেউ কাভার করলে তাঁর গানের আবেগ, মর্যাদা ও মূল অনুভূতি যেন হারিয়ে না যায়—এটি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস। প্রয়াত শিল্পীর সৃষ্টিই তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার উল্লেখ করে তিনি জানান, আইয়ুব বাচ্চুর সৃষ্টির অসম্মান বা স্বার্থহানি হয়—এমন কোনো কাজে তিনি অতীতে যুক্ত ছিলেন না, বর্তমানে নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন না।

অন্যদিকে ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্পের আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে তাঁকে নতুনভাবে স্মরণ করার ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির সমন্বয়ক চিশতি ইকবাল জানিয়েছেন, আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আক্তারের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁর জনপ্রিয় গানগুলো নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরে ২০টি গান নিয়ে পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।

‘উত্তরাধিকার’-এ দলছুট গেয়েছে ‘রুপালি গিটার’, আরবোভাইরাস ‘নীল বেদনা’, সোনার বাংলা সার্কাস ‘গতকাল রাতে’, শুভযাত্রা ‘চলো বদলে যাই’, ক্যালিপসো ‘চাঁদ মামা’, রকসল্ট ‘অচেনা জীবন’, ডোপামিন ‘মাধবী’ এবং এ কে রাহুলের দল পরিবেশন করেছে ‘মন চাইলে মন’। একক শিল্পীদের কণ্ঠেও রয়েছে আইয়ুব বাচ্চুর একাধিক জনপ্রিয় গান।

প্রকল্পটির অন্যতম বড় উদ্দেশ্য আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে একটি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া। ফলে অ্যালবামটি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এর পেছনের উদ্দেশ্যকে ঘিরে সংগীতাঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আইয়ুব বাচ্চুর গান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নতুন শিল্পীদের এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ‘উত্তরাধিকার’ ঘিরে সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—আইয়ুব বাচ্চুর গান শুধু একটি সৃষ্টিকর্ম নয়, তাঁর কোটি ভক্তের কাছে এটি গভীর আবেগ ও স্মৃতির অংশ। তাই তাঁর গান নতুন করে পরিবেশনের ক্ষেত্রে নতুনত্বের পাশাপাশি মূল সৃষ্টির আবেগ ও মর্যাদা কতটা অক্ষুণ্ন রাখা যায়, সেটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।