আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশ টেলিভিশনের সোনালি সময়ের অন্যতম সফল প্রযোজক, নির্মাতা ও সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমানকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। বিদেশে থাকা দুই ছেলে দেশে ফেরার পর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর দাফনের আয়োজন করা হয়।
মুস্তাফিজুর রহমানের মরদেহ প্রথমে তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে নেওয়া হয়। সেখানে সাবেক ও বর্তমান সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে মরদেহ নেওয়া হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। এরপর উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিকেলে বনানী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
টেলিভিশন প্রযোজনা জগতে মুস্তাফিজুর রহমানের সবচেয়ে আলোচিত কাজগুলোর একটি হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী ধারাবাহিক ‘এইসব দিনরাত্রি’। ১৯৮৫ সালে প্রচারিত এই নাটকের পাণ্ডুলিপি পড়ে তিনি এটিকে ধারাবাহিক হিসেবে নির্মাণের উদ্যোগ নেন বলে তাঁর সহকর্মীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে নাটকটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেয়।
‘এইসব দিনরাত্রি’র পাশাপাশি ‘সময় অসময়’, ‘পারলে না রুমকি’সহ আরও বহু জনপ্রিয় নাটকের প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। হুমায়ূন আহমেদের ‘শঙ্খনীল কারাগার’ অবলম্বনে চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছিলেন তিনি। টেলিভিশন মাধ্যমের প্রতি তাঁর দূরদর্শিতা ও নতুন প্রতিভা বিকাশে ভূমিকার জন্য সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন বিশেষভাবে সম্মানিত।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। গাজী টেলিভিশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দেশের টেলিভিশন সম্প্রচারব্যবস্থার বিকাশে তাঁর অবদানকে তাই সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন স্মরণ করবেন।
গত ২৬ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ৮০-এর বেশি বয়সে মারা যান মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর দুই ছেলে বিদেশে থাকায় কয়েক দিন মরদেহ মহাখালীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছিল। সন্তানরা দেশে ফেরার পর পরিবারের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়।
মুস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুতে দেশের টেলিভিশন, নাটক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর নির্মাণ ও প্রযোজনায় তৈরি জনপ্রিয় নাটকগুলো এবং টেলিভিশন শিল্পের বিকাশে তাঁর দীর্ঘ অবদান ভবিষ্যতেও তাঁকে স্মরণীয় করে রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :