• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
anandabinodon.

হুমায়ূন আহমেদকে ঘিরে ফারুক আহমেদের আবেগঘন স্মৃতিচারণ: ‘গুডবাই ফারুক, ভালো থেকো’ সেটিই ছিল শেষ কথা


FavIcon
আনন্দ বিনোদন
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 23, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগ্রহীত ad728

এস..এম সুমন: বাংলা নাটক ও সাহিত্যের কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে অভিনেতা ফারুক আহমেদের সম্পর্ক ছিল শুধু নির্মাতা ও শিল্পীর নয়, বরং গভীর স্নেহ, শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে হুমায়ূন আহমেদের লেখা ও পরিচালনায় সবচেয়ে বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন ফারুক আহমেদ। সেই সুবাদে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য স্মৃতি, যার অনেকগুলো আজও তাকে আবেগাপ্লুত করে।

সম্প্রতি এক স্মৃতিচারণে ফারুক আহমেদ বলেন, “হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আমার স্মৃতির শেষ নেই। কত শত স্মৃতি যে আছে, বলে শেষ করতে পারব না। তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন, পছন্দ করতেন, ভালোবাসতেন। আমিও তাকে সারাজীবন অসম্ভব শ্রদ্ধা করেছি। এখনও করি।”

ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও একসময় অল্প কয়েক দিনের জন্য দেশে ফিরেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। মাকে দেখতে এবং কিছুদিন নুহাশপল্লীতে থাকার সময় খবর পেয়ে তাকে দেখতে যান ফারুক আহমেদ।

সেই দিনের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “যেতে যেতে শুধু ভাবছিলাম, হুমায়ূন আহমেদ কি আগের মতো আছেন? কেমোথেরাপির পর তাকে কেমন দেখাবে? তাকে ওই অবস্থায় দেখে নিজেকে সামলাতে পারব তো?”

তবে নুহাশপল্লীতে পৌঁছে সব দুশ্চিন্তা মুহূর্তেই দূর হয়ে যায়। হুমায়ূন আহমেদ সবার সঙ্গে হাসি-আড্ডায় মেতে ছিলেন, এমনকি গল্প করতে করতেই আম খাচ্ছিলেন।আড্ডার একপর্যায়ে উপস্থিত সবার উদ্দেশে ফারুক আহমেদকে নিয়ে একটি স্মৃতি শোনান হুমায়ূন আহমেদ। তিনি বলেন, একবার ছেলে নুহাশের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভুলবশত ফারুক আহমেদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবুও তিনি উপহার নিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন।

হুমায়ূন আহমেদ তখন উপস্থিত সবাইকে বলেছিলেন, “ফারুক আমাকে বলেছিল, আপনি তো আমাকে দাওয়াত দেননি, তবু আমি এসেছি। সেদিন আমি বুঝেছিলাম, সত্যিকারের ভালোবাসা কাকে বলে। ফারুক আমাকে সত্যিই ভালোবাসে।”

এই কথা বলতে বলতেই হুমায়ূন আহমেদ চশমা খুলে চোখের পানি মুছে নেন। সেই দৃশ্যের কথা স্মরণ করে ফারুক আহমেদ বলেন, “তার চোখে পানি দেখে আমি নিজেও খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম।”সেদিনের আরেকটি ছোট্ট ঘটনা আজও স্পষ্ট মনে আছে তার। হুমায়ূন আহমেদ একটি বিশেষ চশমা দেখিয়ে বলেছিলেন, “দেখো তো, এটা ভাঙে না।” এরপর দুই হাতে সেটি ভাঙার চেষ্টা করলেও তা ভাঙেনি। শিশুসুলভ আনন্দে হেসে তিনি বলেছিলেন, “দেখলে তো, এটা ভাঙে না।”

আড্ডার ফাঁকেই নতুন একটি নাটকের কথাও বলেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। বিদায়ের আগে তিনি ফারুক আহমেদকে বলেন, “আমি একটা নাটক বানাব। তুমি অভিনয় করবে। আমার সহকারী ফোন করলে চলে এসো।”

পরে সত্যিই সেই নাটকের শুটিং শুরু হয়। ফারুক আহমেদ দুদিন শুটিংও করেন। নাটকটি হুমায়ূন আহমেদ লিখলেও অসুস্থতার কারণে পরিচালনা করতে পারেননি। অন্য একজন পরিচালক কাজটি শেষ করেন। তবে শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো থাকলে তিনি শুটিং সেটে এসে চেয়ারে বসে পুরো কাজ দেখতেন।

সেই নাটকের শুটিং শেষ হওয়ার দিনই হয়েছিল তাদের শেষ দেখা।ফারুক আহমেদ বলেন, “শুটিং শেষে গিয়ে বললাম, আমার কাজ শেষ। অনুমতি দিলে ঢাকায় ফিরে যাই। যদি থাকতে বলেন, তাহলে থেকে যাব। তিনি জানতে চাইলেন, ‘তোমার সঙ্গে গাড়ি আছে?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ এরপর আরও কিছু কথা হলো। তারপর হেসে বললেন, ‘গুডবাই ফারুক, ভালো থেকো।’”

এরপরই চিকিৎসার জন্য আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান হুমায়ূন আহমেদ। সেই যাত্রার পর আর দেশে ফেরা হয়নি তার। এটাই ছিল তাদের শেষ দেখা।

আবেগঘন কণ্ঠে ফারুক আহমেদ বলেন, “তারপর তো তিনি চিরবিদায় নিলেন। আমাদের আর দেখা হয়নি। শেষ দেখার সেই মুহূর্তটা মনে পড়লে আজও মন খারাপ হয়ে যায়। খুব কষ্ট হয়। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা আজও একই রকম অটুট।”

তিনি আরও স্মরণ করেন, নুহাশপল্লীতে পৌঁছানোর পর হুমায়ূন আহমেদ তাকে দেখে বলেছিলেন, “আরে ফারুক, এসো। আমার পাশে বসো।” এরপর দীর্ঘ সময় ধরে গল্প করেছিলেন তিনি। ফারুক আহমেদের ভাষায়, আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। যত শুনি, ততই বিস্মিত হই। কারণ, তিনি তো কথার জাদুকর। লেখালেখির জগতের এক প্রবাদপুরুষ।”

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাটানো এই স্মৃতিগুলো আজও অভিনেতা ফারুক আহমেদের হৃদয়ে অমলিন। সময় পেরিয়ে গেলেও সেই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর শেষ বিদায়ের মুহূর্ত তাকে এখনও গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে।

 সম্প্রতি ফারুক আহমেদ ন্যচার বাজার নামে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ শেষ করলেন বিজ্ঞাপনটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা  এইস এম পিয়াল  এতে আরো অভিনয়  করেছেন একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক  সুব্রত।